ভূমিদস্যুর কাছে জমির প্রকৃত মালিকরা অসহায়

প্রকাশিত: 7:31 pm, March 24, 2025 | আপডেট: 7:31 pm,

ভূমিদস্যুর কাছে জমির প্রকৃত মালিকরা অসহায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের মোটামুটি সবখানেই ভূমিদস্যুর সন্ত্রাস দখলদারদের আধিপত্য বিস্তার রয়েছে। যারা নাকি বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাকারী দলের ছত্রছায়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে। যাদের কাছে অনেকটা অসহায় ও জিম্মি জমির আসল মালিকেরা। জমির প্রকৃত মালিক কে বিভিন্ন সময়ে হুমকি জোর জুলুম করে জমি আত্মসাৎ করার বিভিন্ন নজির রয়েছে ।

 

কথা হয় এমনই এক ভুক্তভোগীর সাথে, যার নাম-মনজুর হোসেন, পিতা- মৃত মনির হোসেন মনু উল্লা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাং ৩৩ নং উত্তর যাত্রাবাড়ী, থানা যাত্রাবাড়ী , জেলা-ঢাকা যাত্রাবাড়ী মৌজা সি এস খতিয়ান-১৪, এস এ খতিয়ান দাগ নং -২৭১, আর এস খতিয়ান -৯৩৩, দাগ নং আর এস – ৮০১, যাহার সিটি খতিয়ান -২২২৫, সিটি দাগ নং -৮২০,অপর আরেক দাগে সিএস খতিয়ান – ১২৪, এস এ খতিয়ান – ৩১১, সিএস এবং এস এ দাগ নং – ২৭২, আর এস খতিয়ান – ৮১১,আর এস দাগ নং – ৮০২, যাহার সিটি খতিয়ান -২২২৫, সিটি দাগ নং – ৮২১
(ঢাকা মহানগর সিটি জরিপে খতিয়ান ২২২৫, দাগ নং ৮২০,৮২১ মোট ১৪১৮ অযুতাংশ সম্পত্তিসহ অন্যান্য দাগের আরো বহু সম্পত্তি সি,এস মালিক ছিলেন আমার পিতামহ-মৃত বাদশা মিয়া ও তার স্ত্রী শুক্কুর বিবি।

ভুক্তভোগী আরো জানান আমার দাদা ও দাদীর মৃত্যুবরণ করিলে উল্লিখিত ঢাকা মহানগর জরিপে ১৪১৮ অযুতঅংশ সম্পত্তি আমার পিতা মৃত বীর যোদ্ধা মনির হোসেন মনো উল্লাহ পিতার ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হইয়া ভোগ দখল করতে থাকে, ভুক্তভোগী আরো জানান আমার বাবা ৪/১২/১৯৮৪ ইং তারিখে মৃত্যুবরণ করিলে বর্ধিত সম্পত্তি আমি সহ আমার অপর ভাই বোন এবং আমার মা একমাত্র মালিক হই এই সম্পত্তির, যার মধ্যে আছে ঢাকা মহানগর সিটি জরিপে ২২২৫ নং খতিয়ানের ৮২০ ও ৮২১ নং দাগে মোট ১৪১৮ অযুতাংশ সম্পত্তি ওয়ারিশ সূত্রে নিজেদের নামে রেকর্ড হয়, পূর্বের নির্মাণকৃত ঘরবাড়ি,দোকান-পাট নিজেরা ব্যবহার ও ভাড়া দিয়ে ভোগ দখল করে আসতেছি ।

ইতিপূর্বে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ভূমিদস্যু সন্ত্রাস আবুল হোসেন,আব্দুল কাদের পাপ্পু ও বিল্লাল হোসেন গং সহ আরো অনেকে যাদেরকে দেখলে চিনব যারা ছিল ঢাকা ৫ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক -এমপি মনিরুল ইসলাম মনু এর ঘনিষ্ঠজন এবং তারই নির্দেশে বিভিন্ন রকম সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও ভূমি দখল চালিয়ে আসছিল ৫ ই আগস্ট এর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত।

ভুক্তভোগী আরো জানান উক্ত ভূমিদস্য প্রকৃতির লোকেরা দীর্ঘ ১৭ বছর হামলা ও মামলার ভয় দেখিয়ে আমাদের ঘরবাড়ি ছাড়া করে রাখে এবং এই সুযোগে জাল দলিল তৈরি করে বর্ণিত সম্পত্তির আংশিক সম্পত্তি হইতে আমাদেরকে বে দখল করাকালে বিগত ১/২/২০১২ইং তারিখে আমাদের ঘরবাড়িতে থাকা নগদ টাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র স্বর্ণালংকার লুট করা সহ ঘরের সর্বমোট প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করে।

এরপরে আমার ভাইয়েরা জীবনের মায়া ত্যাগ করে এই ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে মামলা মোকাদ্দমা দায়ের করলে আমরা বৈষম্যের শিকার হই,বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের এই ভূমিদস্যু আবুল হোসেন গং বিগত সরকারের ক্ষমতা ব্যবহার করে আমাদের আদালতে দায়ের কৃত মামলা থেকে পিছু হাটতে বাধ্য করে ও জীবননাশের হুমকি দেয়।তখন আমরা নিরুপায় হয়ে সকল প্রকার আইনি পদক্ষেপ হইতে বিরত থাকতে বাধ্য হই। এরপরে পাঁচই আগস্ট ২০২৪ ইং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে এই ভূমিদস্যু আবুল হোসেন গং আমাদের যেই সম্পত্তি তারা দখল করে রেখেছিল সেই সম্পত্তি রেখে আত্মগোপনে চলে গেলে স্থায়ী গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শুভাকাঙ্ক্ষী গণ সম্মিলিতভাবে আমাদের পৈতৃক ওয়ারিশ সূত্রের কিছু আংশিক সম্পত্তি আমাদের দখলে বুঝিয়া দিলে আমরা উক্ত সম্পত্তি ভোগ দখল করতে থাকি কিন্তু এই ভূমিদস্যু আবুল হোসেন গং তাদের অপতৎপরতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ রাখেনি।

ভুক্তভোগী আরো যারা এখানে উল্লেখিত ৫ই আগস্টের ছাত্র জনতার আন্দোলনের মামলার আসামি এই ভূমিদস্য আবুল হোসেন গং যেহেতু মামলার জন্য তার আত্মগোপনে আছে তার নির্দেশে লোক মারফতে আমার কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরপরে আমি যাত্রাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডাইরি দায়ের করি। অপর আরো ভুক্তভোগী সাইদা রহমান, আব্দুল, হোসাইনও এই ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলে।

ভুক্তভোগী আরো জানান ৫ ই আগস্ট এর ছাত্র জনতার আন্দোলনের রুজুকৃত মামলার আসামি আব্দুল কাদের পাপ্পু আমাদের সম্পত্তিতে আক্রমণ করার আগ মুহূর্তে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের কাছে আটক হয়, কিন্তু আবুল হোসেন গং এখনো পলাতক রয়েছে এবং বিভিন্নভাবে আমাদের প্রান নাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী বলেন আমরা জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *