মানিকগঞ্জ ঝিটকার খেজুরের রস ও হাজারি গুড়, সংগ্রহে গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত গাছিরা

মো নাহিদুর রহমান শামীম শীতে মৌসুম আসতে আর তেমন বাকি নেই, আর সেই শীতের সকালে খেজুর গাছের মিষ্টি রস তার তো তুলনা হয় না, শীতে পরিপূর্ণ করে তুলে। মানিকগঞ্জ জেলার ঝিটকা,
গ্রামাঞ্চলে এখন খেজুরগাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন গাছিরা। হেমন্তের স্নিগ্ধ হাওয়ায় যখন পাঁকা ধানের সোনালী আভা চারদিকে নবান্নের বার্তা ছড়াচ্ছে, তখনই শুরু হয়েছে শীতের আগমনী প্রস্তুতি। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের কোমল রশ্মি যখন ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দুতে খেলা করে, তখনই প্রকৃতি জানান দিচ্ছে— শীত আসছে, আর তার সঙ্গে আসছে খেজুরের রসের মৌসুম।
কার্তিক ও অগ্রহায়ণ— এই দুই মাস বাঙালির নবান্ন উৎসবের মাস। নতুন ধানের পিঠা-পায়েসের আনন্দে আত্মীয়তার বন্ধন যেমন দৃঢ় হয়, তেমনি এই উৎসবের অপরিহার্য উপকরণ হলো খেজুরের গুড়। সেই গুড় তৈরির প্রস্তুতি এখন পুরোদমে চলছে মানিকগঞ্জ হরিরামপুর উপজেলা ঝিটকা গ্রামে।
ঝিটকা গ্রামের বাসিন্দা রানুন কার্তিক জানান, এক সময় অনেক খেজুর কাছ কেটেছি তখন অনেক রস সংগ্রহ করতাম। এখনো রসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে কিন্তু দিন দিন খেজুর গাছ হারিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, খেজুর গাছ একদিকে ছায়া ও অক্সিজেন দেয়, অপরদিকে তার রস ও গুড় গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করে। তাই বিলুপ্তপ্রায় এই ঐতিহ্য রক্ষায় এখনই উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন
“খেজুরের রস সংগ্রহের সময় হাড়ি অবশ্যই জাল বা নেট দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। এতে বাদুড় বা অন্যান্য প্রাণীর সংস্পর্শ এড়ানো সম্ভব হয়, ফলে রস থাকে বিশুদ্ধ ও নিরাপদ।”
এটি বাঙালির শীতকালীন ঐতিহ্যেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই বিশুদ্ধতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তারা। এছাড়াও মানিকগঞ্জ “লোক সঙ্গীত আর হাজারী গুড়, মানিকগঞ্জের প্রাণের সুর’’
জেলার ঝিটকা গ্রামে মিনহাজ উদ্দিন হাজারী নামে একজন দক্ষগাছী ছিলেন। দক্ষতা, সাধনা আর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আবিস্কার করেন সুস্বাদু সুগন্ধী গুড়। তার নাম অনুসারেই এ গুড়ের নাম রাখা হয় হাজারী গুড়। লোভনীয় স্বাদ আর মন মাতানো সুগন্ধে অতুলনীয় হাজারী গুড়ের পরিধি এখনো বিশ্ব সমাদৃত।
ইতিহাস খ্যাত হাজারী গুড়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দু’হাতে গুড়ো করে ফুঁ দিলে তা ছাতুর মত বাতাসে উড়ে যায়। এ ঐতিহ্য দু’একদিনের নয়; প্রায় দুইশত বছরের।ইংল্যান্ডের রাণী এলিজাবেথকেও এ গুড় উপহার দেয়া হয়েছিল। কথিত আছে, রাণী এলিজাবেথ এই গুড়ের স্বাদ আস্বাদন করে ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। এমনকি বিশ্বের কমপক্ষে ২০টি দেশের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ এ গুড়ের স্বাদ নিতে মুখিয়ে থাকেন, করেন ভূয়সী প্রশংসা। তাই শীত মৌসুম এলেই হাজারী গুড়ের কারনে মানিকগঞ্জ পরিণত হয়ে উঠে রীতিমত একটা শিল্পে।

