বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের বাসার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে জেলখানায় আয়েশী জীবন

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:
মানিলন্ডারিং মামলায় বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান ও ক্যাম্ব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা লায়ন এম কে বাসার, শিক্ষার্থীদের কোটি টাকা আত্মসাৎ করে জেলখানায় কাটাচ্ছে আয়েশী জীবন । শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আত্মসাৎ করা কোটি টাকা ফেরত পাওয়ার কোন সূরাহা নেই।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, খায়রুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রী খন্দকার সেলিমা রওশন ও ছেলে আরশ ইবনে বাশারকে সঙ্গে নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র গড়ে তোলেন। ‘বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ’করে দেয়ার আশ্বাসের আড়ালে, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শত শত শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এই চক্রটি।
নানা অপকর্মের প্রায় ৩২০ টি মামলা কাঁধে নিয়ে গত ১৪ জুলাই সিআইডির হাতে আটক হয় বিএসবি গ্লোবালের চেয়ারম্যান ও ক্যাম্ব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা লায়ন এম কে বাসার, হাজারো শিক্ষার্থীর টাকা আত্মসাৎ করে অবশেষে মানিলন্ডারিনের মামলায় বর্তমানে কেরানীগঞ্জ জেলখানাতে আছে সে।
তিনি আওয়ামিলীগের দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিগত সময় বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপি এবং সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগ সাজেশ রেখে দলীয় প্রভাব বিস্তার করে অনেক সুযোগ সুবিধা গ্রহন করে।
এই প্রতারক টাকার প্রভাবে জেলখানার মধ্যে গড়ে তুলেছে আয়েশী জীবন। যেখানে ১৫ দিনে একবার আত্মীয়-স্বজনের সাথে কথা বলার নিয়ম রয়েছে সেখানে সে প্রতিনিয়ত মোবাইল ব্যবহার করছে, এবং তার স্ত্রী, পরিবার শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ বন্ধুদের সাথে প্রতি সপ্তাহে অন্তত তিন থেকে চার বার কথা হয় বলে জানা যায়।
পাশাপাশি জেলের বাইরে থেকে বিভিন্ন মামলার আসামি তাকে তার ছোট বউ কানিস ফাতেমা দোলা খাইরুল বাসার কে মুক্ত করার জন্য বিভিন্ন ভাবে তদবির চালিয়ে যাচ্ছে ।
জেলখানার ভিতরে অনিয়মের তথ্যচিত্র বেরিয়ে আসলো, এ প্রতারক গত সপ্তাহে জেলখানার ভিতরে মোবাইল সহ ধরা পড়ে। যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং পরবর্তীতে জেল কর্তৃপক্ষ তাকে ছেলে প্রেরন করে । এ অবস্থা শিক্ষার্থীদের মধ্যে জানাজানি হলে তাদের মাঝে ক্ষুভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
জানা যায়, এর আগেও সে চিকিৎসার কথা বলে পি জি হাসপাতালে একজন সাধারণ বন্দি হয়েও প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার এহেন কর্মকান্ডে শিক্ষার্থীরা হতাশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাসার সম্পর্কে জানান, অসাধু কিছু কারা কর্তৃপক্ষ কে ম্যানেজ করে বাসার এই অবৈধ সুবিধা নিচ্ছে টাকার মাধ্যমে ।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে দাঁড়িয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিমত এই প্রতারকের বিচার হবে কিনা
শিক্ষার্থী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায় , বিভিন্ন পরিবার জমি ,বাড়ি-ঘর,স্বর্ণ ঘয়না বন্ধক রেখে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে নিজেকে সর্বশান্ত করে দেন। সে সুযোগ নিয়ে এই আওয়ামী লীগের দোসর তৎকালীন সেই প্রভাবশালী এম,কে,বাসার হাতিয়ে নেন হাজার হাজার কোটি টাকা। তবে হাজার শিক্ষার্থী পরিবার এই প্রতারক খাইরুল বাশার থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা ফেরত পেতে অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে বিশেষ জোর দাবি জানান।
প্রসঙ্গগত, বিদেশে উচ্চ শিক্ষার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল বাশার বাহারের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছিলেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার। রাজধানীর সিএমএম আদালত প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মানববন্ধনে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শতাধিক ভুক্তভোগী। তাদের দাবি, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ উন্নত দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক।
তবে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পরিবাররা জানিয়েছিলেন, প্রতিজনের কাছ থেকে গড়ে ২০ লাখ টাকা করে আদায় করা হয়েছে, যার মোট অঙ্ক ২০০ কোটিরও বেশি। একাধিক তারিখে পাঠানোর আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত বিদেশে পাঠানো হয়নি। বরং নানা অজুহাতে সময় ক্ষেপণ ও তালবাহানা করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা আরো জানান, এক বছর আগেই এসব অভিযোগ জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছিল। এরপরও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পরিবার সকলেই বিশেষ অনুরোধ রাখেন যেন দ্রুত তাদের আত্মসাৎকারীর থেকে এই অর্থ ফিরিয়ে আনা দেওয়া হয়।
সিআইডি তথ্য মতে, মানি লন্ডারিং মামলায় খায়রুল বাশারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও অর্থ পাচার আইনে একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলছে। ভুক্তভোগীরা সরকারের কাছে দ্রুত বিচারের দাবি জানান এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরতের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ধারাবাহিকতার প্রথম পর্ব : সামনে আসছে আর তথ্য চিত্র

