রাশিয়ায় আন-২৪ যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত: ৪৯ আরোহীর কেউ বেঁচে নেই বলে আশঙ্কা


আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় আমুর অঞ্চলে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় ৪৯ জন যাত্রীর সবাই নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরে আন-২৪ মডেলের একটি যাত্রীবাহী বিমান অবতরণের কিছু আগে আগুন ধরে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনাটি ঘটে টিন্ডা শহরের অদূরে একটি পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চলে।
সাইবেরিয়া-ভিত্তিক আংগারা এয়ারলাইন্সের মালিকানাধীন বিমানটি খাবারোভস্ক-ব্লাগোভেশচেনস্ক-টিন্ডা রুটে চলাচল করছিল। ব্লাগোভেশচেনস্ক শহর থেকে রওনা হয়ে উত্তরাঞ্চলের টিন্ডার দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় বিমানটি। এসময় সঙ্গে সঙ্গে একটি এমআই-৮ হেলিকপ্টার অনুসন্ধানে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স এবং ফায়ার সেফটি কেন্দ্র জানিয়েছে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে তাতে আগুন ধরে যায় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে হেলিকপ্টার ক্রুরা জানান, তারা কোনো জীবিত ব্যক্তির সন্ধান পাননি। দুর্গম এলাকায় পড়ে থাকায় এখনো হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে নামতে পারেনি।
বিমানটিতে মোট ৪৯ জন আরোহী ছিলেন, যার মধ্যে ছিল ৫ জন শিশু এবং ৬ জন ক্রু মেম্বার। আমুর অঞ্চলের গভর্নর ভাসিলি অরলোভ এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তাস নিউজ এজেন্সিকে একজন কর্মকর্তা বলেন, “বিমানটি একটি পাহাড়ি ঢালে বিধ্বস্ত হয় এবং সেখানে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন। আমরা এখনও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারিনি।”
রাশিয়ান ইন্টারফ্যাক্স নিউজ এজেন্সি জানায়, বিমানটি নিরাপত্তা চেক পয়েন্ট অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয় এবং এরপর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
রুশ কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ফ্লাইট সেফটি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে একটি ফৌজদারি তদন্ত খোলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুর্ঘটনাকবলিত এলাকাটির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও আবহাওয়াজনিত চ্যালেঞ্জ উদ্ধার কার্যক্রমকে জটিল করে তুলেছে। উদ্ধারকারী দল ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মতে, প্রকৃত কারণ জানতে আরও সময় লাগবে।