লাখো ভক্তের মিলনমেলায় শুরু হলো বিশ্ব ওলির দরবারে মহাপবিত্র উরস শরিফ

প্রকাশিত: 9:11 pm, January 10, 2026 | আপডেট: 9:11 pm,

লাখো ভক্তের মিলনমেলায় শুরু হলো বিশ্ব ওলির দরবারে মহাপবিত্র উরস শরিফ

নাজমুল হাসান: সাম্য, শান্তি ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে লাখো ভক্তের অংশগ্রহণে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও শুরু হয়েছে বিশ্ব ওলি হজরত শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) কেবলাজান ছাহেবের মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরিফ।

 

শুক্রবার জুমার নামাজের পর ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে অবস্থিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে পবিত্র রওজা শরিফ জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চার দিনব্যাপী এই উরস শরিফের উদ্বোধন করা হয়।

 

১০, ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত উরস শরিফ চলবে। মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরিফ।

 

উরস শরিফ উপলক্ষে ইতোমধ্যেই দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ আশেকান, জাকেরান ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে সমবেত হয়েছেন। নান্দনিক সাজে সাজানো হয়েছে পুরো দরবার শরিফ ও আশপাশের এলাকা। ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, মিলাদ মাহফিল, ধর্মীয় আলোচনা, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

 

বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে প্রতিদিন ভোর রাত ৩টায় রহমতের সময় থেকে শুরু হয়ে এশার নামাজের পর দয়াল নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ৫০০ বার দরুদ শরিফ পাঠের মাধ্যমে দিনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ হয়। দিনভর চলে ধর্মীয় আলোচনা ও বিশেষ মোনাজাত।

 

উল্লেখ্য, বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের সুমহান প্রতিষ্ঠাতা বিশ্ব ওলি হজরত শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) ১৩৫৪ বাংলা সালে ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে আগমন করেন। সে সময় এই অঞ্চলটি ছিল ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামী চর্চা থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। ঈদের দিনেও মানুষ লাঙ্গল-জোয়াল নিয়ে মাঠে যেত, নামাজ-কোরবানির প্রচলন ছিল না। এমনকি মুসলমানরা হিন্দু জমিদারের পূজায় অংশগ্রহণ করত এবং হিন্দুয়ানি রীতিনীতিতে অভ্যস্ত ছিল।

 

এই অবস্থায় কোরবানির ঈদের দিন মাত্র তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) সেখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন এবং আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন হে খোদা, আজ আমরা অল্প কয়েকজন ঈদের নামাজ আদায় করলাম, দয়া করে তুমি এখানে বিশাল ঈদের জামাত কায়েম করো।

 

মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ সেই আটরশিতেই লক্ষ লক্ষ মুসল্লির অংশগ্রহণে বিশাল ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

 

এছাড়া হযরত ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.)-এর দাদাপীর হযরত সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রহ.) ফরিদপুর জেলার গেরদা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। ইসলামের হিদায়াত প্রচারে বাধার সম্মুখীন হয়ে তিনি একসময় কলকাতা গমন করেন। তবে যাওয়ার আগে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, এখানে আমার গোলামের গোলাম আসবে, যার সামনে কোনো অপশক্তিই টিকবে না।

 

পরবর্তীতে সেই ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্যে পরিণত করেন হযরত এনায়েতপুরী (কু.ছে.আ.) এবং তাঁরই গোলাম বিশ্ব ওলি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.)। রাসুল (সা.)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর সাধনার মাধ্যমে নিজের জীবন গড়ে তোলেন এবং প্রতিষ্ঠা করেন ইসলামের হিদায়াত ও সত্য প্রচারের মহান কেন্দ্র—বিশ্ব জাকের মঞ্জিল।

 

আজ বিশ্ব উরস শরিফ সেই আলোকিত সাধনারই ধারাবাহিকতা, যেখানে লাখো মানুষ একত্রিত হয়ে শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও ইসলামী আদর্শে নিজেদের জীবন আলোকিত করার শপথ নিচ্ছেন।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *