বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এন্সেলাডাসের বরফে ঢাকা পৃষ্ঠের নিচে রয়েছে বিশাল এক উপসাগরীয় মহাসাগর, যা এই চাঁদটিকে সৌরজগতের বহির্জীবনের সম্ভাব্য আবাসস্থলগুলোর মধ্যে অন্যতম করে তুলেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, চাঁদটির বরফঝর্ণা বা প্লুম থেকে নির্গত জৈব অণুগুলো মহাকাশে ছড়িয়ে শনির চারপাশে ই-রিং তৈরি করছে। এসব অণুর গঠন পৃথিবীতে জীবনের উৎপত্তিতে ভূমিকা রাখা উপাদানগুলোর সঙ্গে মিলে যায়।
ফ্রি ইউনিভার্সিটি অব বার্লিনের গ্রহবিজ্ঞানী নোজায়ার খাজাজা বলেন,
“এই আবিষ্কার এন্সেলাডাসকে বসবাসযোগ্য হিসেবে আরও শক্ত প্রমাণ দেয়। তবে এখনো সেখানে জীবনের সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি; ভবিষ্যতে আরও অনুসন্ধান দরকার।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০৮ সালে ক্যাসিনির ফ্লাইবাই মিশনের সময় সংগৃহীত বরফ কণাগুলিতে গবেষকরা নতুন ও পুরনো উভয় ধরনের জৈব অণু শনাক্ত করেছেন, যা জীবনের মৌলিক রাসায়নিক ভিত্তির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
শনি গ্রহের মোট ২৭৪টি চাঁদের মধ্যে এন্সেলাডাস অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি আরেক চাঁদ মিমাসেও বরফের নিচে মহাসাগরের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, নাসার ইউরোপা ক্লিপার মিশন ২০৩০ সালে বৃহস্পতি গ্রহের চাঁদ ইউরোপার দিকে রওনা হবে, যেখানে বসবাসযোগ্য পরিবেশের অনুসন্ধান চালানো হবে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এন্সেলাডাস, মিমাস ও ইউরোপা—এই বরফে ঢাকা চাঁদগুলোই হয়তো বহির্জীবনের রহস্য উন্মোচনে মানবজাতির পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে।