সিরাজদিখানে ইছামতি নদী শুকিয়ে খাল, দ্রুত খননের দাবি

প্রকাশিত: 2:16 pm, March 18, 2026 | আপডেট: 2:16 pm,

সিরাজদিখানে ইছামতি নদী শুকিয়ে খাল, দ্রুত খননের দাবি

দেবব্রত দাস দেবু, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ইছামতি নদী দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা হারিয়ে প্রায় মরা খালে পরিণত হয়েছে। বর্ষা শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই পানিশূন্য হয়ে পড়ায় নদীর অস্তিত্বই এখন হুমকির মুখে।

 

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৬০ বছর আগে খনন করা এই নদীতে একসময় লঞ্চ চলাচল করত এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে নৌপথে যোগাযোগ ছিল। নব্বইয়ের দশকেও চৈত্র-বৈশাখে নদীতে ছিল পর্যাপ্ত পানি ও দেশীয় মাছের প্রাচুর্য। বর্তমানে পলি জমে ও কচুরিপানায় ভরে গিয়ে বাসাইল, তালতলা, সন্তোষপাড়া, ভূইরাসহ বিভিন্ন এলাকায় নদী প্রায় শুকিয়ে গেছে।

 

নদীর তলদেশে এখন বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করছেন কৃষকরা। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিল-বাঁওড়ের জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে। নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

 

স্থানীয় জেলে নিরঞ্জন দাস বলেন, একসময় এই নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতাম। এখন নদী শুকিয়ে যাওয়ায় মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে।

কৃষক মতিউর রহমান দেওয়ান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করায় সেচ সংকট দেখা দিয়েছে, ফলে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

 

সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ শুভ্র জানান, নাব্য সংকট অব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়বে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষ বলেন, দ্রুত খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে নদী পুনরুজ্জীবন জরুরি।

 

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত খনন কার্যক্রম শুরু করা হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরবে, সচল হবে নৌপরিবহন, পাশাপাশি উন্নত হবে স্থানীয় অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *