সিরাজদিখানে পারিবারিক কলহের জেরে বিষপানের ৫ দিন পর স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

প্রকাশিত: 2:21 am, August 10, 2025 | আপডেট: 2:21 am,

সিরাজদিখানে পারিবারিক কলহের জেরে বিষপানের ৫ দিন পর স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

দেবব্রত দাস দেবু, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে বিষপানের পাঁচ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর দুই ভিন্ন হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়।

 

মৃতরা হলেন—দেলোয়ার হোসেন (২৫) ও তার স্ত্রী রাখিয়া আক্তার (২৬)। তারা উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের চরকুন্দলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ছয় বছর আগে প্রেম করে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের মো. রাকিব (৫) ও সাকিব (৩) নামে দুই পুত্রসন্তান রয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট সন্ধ্যার দিকে পারিবারিক বিরোধের এক পর্যায়ে প্রথমে স্ত্রী রাখিয়া আক্তার (স্থানীয়ভাবে লাখি আক্তার নামে পরিচিত) বিষপান করেন। পরে একই বোতলের অবশিষ্ট বিষ পান করেন স্বামী দেলোয়ার হোসেন। পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার নিউ লাইফ, ডেল্টা এবং ম্যাক্সএইড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

 

শনিবার সকাল ৯টার দিকে ম্যাক্সএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাখিয়া আক্তার এবং একই সময়ে ডেল্টা হাসপাতালে মারা যান দেলোয়ার হোসেন।

 

দেলোয়ার হোসেনের বাবা আব্দুল বারেক মিয়া বলেন, “৪ আগস্ট সন্ধ্যায় নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে দেখি ছেলের বউ হঠাৎ বমি করছে। আমরা দ্রুত তাকে নিউ লাইফ হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে ছেলে খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে একই বোতলের অবশিষ্ট বিষ পান করে। তাকে সেখান থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। ঠিক কী কারণে তারা এমন করল, তা এখনো বুঝতে পারছি না। তবে ধারণা করছি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বা মনোমালিন্য থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে।”

 

সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবু বকর জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক মনোমালিন্য বা ঝগড়ার জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে স্ত্রী বিষপান করেন, পরে স্ত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় কিছুক্ষণ পর স্বামী অবশিষ্ট বোতলের বিষপান করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বল্পবয়সে দুই সন্তানের এতিম হয়ে যাওয়া হৃদয়বিদারক করে তুলেছে স্থানীয়দের।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *