সূত্রাপুর থেকে পোস্তগোলা সড়ক সংস্কারে উদাসীনতা: এলাকাবাসীর মানববন্ধন


আনোয়ার হোসেন: সূত্রাপুর থেকে পোস্তগোলা সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খানাখন্দে ভরা এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারী, শিক্ষার্থী ও গাড়িচালক চলাচল করে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়ছেন। সংস্কার না হওয়ায়, বর্ষাকালে এ সড়ক যেন একপ্রকার জলাবদ্ধতার খালেই পরিণত হয়।
বারবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সত্ত্বেও এ সড়কের উন্নয়ন বা সংস্কারের উদ্যোগ দেখা যায়নি।
এ পরিস্থিতির প্রতিবাদ ও সংস্কারের দাবিতে আজ ১৩ জুলাই সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টাব্যাপী এ সড়ক ঘিরে মানববন্ধন পালন করেন এলাকাবাসী ও স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা।
মানববন্ধনে গর্জে উঠলো এলাকাবাসী
একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন।
সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা ফজলুর রহমান বকুল।এছাড়াও মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন—স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন বিএনপি নেতা মোঃ মাহবুবুর রহমান, মুজিবুর রহমান খান, স্থানীয় শিক্ষক, ব্যবসায়ী, গৃহবধূ ও ছাত্রছাত্রীরা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “একটা মূল সড়ক বছরের পর বছর সংস্কারহীন থাকবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা রাজস্ব দিচ্ছি, অথচ রাস্তা ঠিক নেই, আলো নেই, ড্রেনেজ নেই!”
চলাচলে চরম ভোগান্তি, বাড়ছে দুর্ঘটনা
এই রাস্তার দুপাশের বসবাসকারী মানুষ, কর্মজীবী নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীবাহী গাড়ির প্রধান চলাচলের পথ। প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যাতায়াত করা শিক্ষার্থীরা কাদা ও গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
গাড়িচালকরা বলছেন, “ভ্যান বা অটোরিকশা নিয়ে যেতে গিয়ে অনেক সময় স্লিপ খেয়ে গাড়ি উল্টে যায়। গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়ে গেছে।”
দাবি ও আহ্বান:
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে সূত্রাপুর থেকে পোস্তগোলা রাস্তাটির জরুরি সংস্কার ও উন্নয়নকাজ শুরু করার জোর দাবি জানান। পাশাপাশি, সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানান।
রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এ সড়কের এই নাজুক অবস্থা রাজধানী উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় এক প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করছে। জনস্বার্থে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।