আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন: দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে দেয়া হবে বিশেষ প্রশিক্ষণ, মাঠে থাকবে ৬০ হাজার সেনা

প্রকাশিত: 6:39 pm, July 28, 2025 | আপডেট: 6:39 pm,

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন: দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে দেয়া হবে বিশেষ প্রশিক্ষণ, মাঠে থাকবে ৬০ হাজার সেনা

স্টাফ রিপোর্টার:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়ে সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে দেড় লাখ পুলিশ সদস্যের নির্বাচনকেন্দ্রিক বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। প্রশিক্ষণ চলবে অক্টোবর ও নভেম্বরজুড়ে।

আজ সোমবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

নির্বাচন ঘিরে ভুয়া তথ্য ও গুজব ছড়ানোর প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সরকার ‘ন্যাশনাল ইনফরমেশন সেন্টার’ গঠনের পরিকল্পনা করছে বলে জানানো হয় ব্রিফিংয়ে। শফিকুল আলম বলেন, “এই সেন্টার দ্রুত গুজব শনাক্ত ও প্রতিরোধ করবে এবং সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেবে।”

নতুন গঠিত জাতীয় নিরাপত্তা কমান্ড কাঠামোর অধীনে একটি মিডিয়া উইং প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিং এবং তাৎক্ষণিক তথ্য প্রকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সম্প্রতি গোপালগঞ্জসহ কয়েকটি স্থানে অস্থিরতা সৃষ্টির পূর্বাভাস দিতে না পারায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমালোচনার মুখে পড়ে। এ প্রসঙ্গে শফিকুল আলম জানান, একজন অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতির নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ব্যর্থতা রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আরও সমন্বিত ও অগ্রিম তথ্য সংগ্রহে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনপূর্ব প্রশাসনিক রদবদল প্রসঙ্গে উপ-প্রেস সচিব বলেন, “সার্বিক নয়, যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই রদবদল হবে।”
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্ভাব্য সহিংসতা প্রবণ এলাকা (হটস্পট) দ্রুত চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে এবং এসব এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “সরকার সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ডে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল রয়েছে এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হচ্ছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশ একটি নিরাপদ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছে।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *