বাকেরগঞ্জে রহস্যময় মৃত্যু ও অপরাধের বাড়বাড়ন্ত

প্রকাশিত: 4:33 pm, August 2, 2025 | আপডেট: 4:33 pm,

বাকেরগঞ্জে রহস্যময় মৃত্যু ও অপরাধের বাড়বাড়ন্ত

 

মাদকের থাবা, ‘আণ্টিরখলা বাহিনী’র ত্রাস, পুলিশের নীরবতায় জনমনে চরম উদ্বেগ

 

বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের বেবাজ গ্রামে ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক এবং রহস্যময় মৃত্যু। কাঁচামাল ব্যবসায়ী মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৪০) নিজ বাড়ির তিনতলার ছাদের রেলিংয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও, ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা রহস্য ও সন্দেহের আবহ।

 

স্থানীয়রা বলছেন, এটি নিছক আত্মহত্যা নয়—এর পেছনে রয়েছে গভীর কোনো কারণ বা পরিকল্পিত কিছু। কেউ বলছেন মানসিক সমস্যায় ছিলেন, কেউ বলছেন অদ্ভুত আচরণ করছিলেন, কেউ বা সরাসরি বলছেন, ‘এই মৃত্যু স্বাভাবিক নয়।’ ফলে এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ও নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

 

এই ঘটনাটি যেন খুলে দিয়েছে পুরো উপজেলার অপরাধ পরিস্থিতির চিত্রপট। শুধুমাত্র এই একটি নয়—সাম্প্রতিক সময়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বেড়েছে অপরাধ, সহিংসতা ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও পুলিশের নীরব অবস্থানেই অপরাধীরা হয়ে উঠেছে আরও বেপরোয়া।

 

বিশেষ করে, ‘আণ্টিরখলা বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি অপরাধীচক্র এলাকাজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এই চক্র চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এমনকি অস্ত্রের মহড়াসহ নানা অপরাধে জড়িত। দিনের আলো হোক কিংবা রাতের অন্ধকার—তাদের কার্যক্রম থেমে নেই।

 

অন্যদিকে, উপজেলায় ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে মাদকের প্রভাব। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে যুবক ও মধ্যবয়সী অনেকেই আজ মাদকাসক্ত। ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাঁজা, হেরোইন ছাড়াও নতুন নতুন কেমিক্যাল মাদক ঢুকে পড়েছে গ্রামে-গঞ্জে। অথচ এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তেমন কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।

 

এলাকাবাসী অভিযোগ করছেন, থানা পুলিশের ভূমিকা একেবারেই প্রশ্নবিদ্ধ। বেশিরভাগ সময়েই পুলিশ অপরাধের পর স্রেফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও লাশের সুরতহাল করেই দায় সারে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে নেই কোনো সক্রিয়তা বা জোরালো পদক্ষেপ।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “বাকেরগঞ্জে এখন রাতে মেয়েদের বাইরে বের হতে ভয় লাগে। অপরাধীরা একের পর এক ঘটনা ঘটাচ্ছে, কিন্তু পুলিশ যেন দেখেও কিছু করছে না।”

 

সচেতন মহল মনে করছে, এখনই সময় এই নৈরাজ্য থামানোর। বিশেষ অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার, মাদক চক্রের মুলে আঘাত এবং পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

 

একজন প্রবীণ শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এইভাবে চলতে থাকলে বাকেরগঞ্জ একসময় অপরাধের অভয়ারণ্য হয়ে উঠবে। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে হলে এখনই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

 

উপজেলাবাসীর এখন একটাই প্রশ্ন—আইনের শাসন ফিরবে কবে? প্রশাসন কি ঘুম থেকে জেগে উঠবে, না কি জনগণকে এই অপরাধরাজত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে?



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *