এআই ব্যবহারে আইনগত কাঠামোতে পিছিয়ে বাংলাদেশ, পলিসি তৈরিতে কাজ করছে সরকার

প্রকাশিত: 8:36 am, August 12, 2025 | আপডেট: 8:36 am,

এআই ব্যবহারে আইনগত কাঠামোতে পিছিয়ে বাংলাদেশ, পলিসি তৈরিতে কাজ করছে সরকার
এআই ব্যবহারে আইনগত কাঠামোতে পিছিয়ে বাংলাদেশ, পলিসি তৈরিতে কাজ করছে সরকার

প্রযুক্তি ডেস্ক:

বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক দেশেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার ও অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন, নীতিমালা ও স্ট্র্যাটেজি চালু হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো এআই ব্যবহারের সীমা ও অপব্যবহার রোধে সমন্বিত কোনো আইনগত কাঠামো নেই।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা মনে করছেন, এআই ব্যবহারে নৈতিকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও প্রস্তুত নয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (ন্যাশনাল এআই) পলিসি প্রণয়নের কাজ চলছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, “আমাদের একটি টিম ন্যাশনাল এআই পলিসি নিয়ে কাজ করছে। অন্যান্য কিছু পলিসি শেষ হলে এই পলিসি এগিয়ে নেওয়া হবে এবং সব প্রাসঙ্গিক বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বিএম মইনুল হোসেন বলেন, “জেনারেটিভ এআই আসার পর কণ্ঠস্বর ও মুখমণ্ডল নকল করা সহজ হয়ে গেছে। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই উদ্বেগজনক। মিথ্যা তথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানোও এখন অনেক বেশি সহজ।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষকে হেয় করা, মানবিক ঘটনার সুযোগ নেওয়া বা প্রোপাগান্ডা চালাতে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ঘটছে।

২০২০ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ‘জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কৌশল’ প্রণয়ন করলেও সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। গত বছর ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারও ন্যাশনাল এআই পলিসির একটি খসড়া তৈরি করেছিল, যেখানে সরকারি সেবা, বিচার ব্যবস্থা, ডেটা গভর্ন্যান্স, টেলিযোগাযোগ, শিক্ষা, কৃষি, গবেষণা ও উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন খাতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। তবে সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

খসড়ায় একটি স্বাধীন ন্যাশনাল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও রয়েছে।

এআই ব্যবহারের নৈতিক দিক নিশ্চিত ও ঝুঁকি কমাতে ২০২১ সালের নভেম্বরে ইউনেস্কোর ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র সর্বসম্মতিক্রমে ‘এথিকস অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ অনুমোদন করে। এ কাঠামোর মাধ্যমে ‘রেডিনেস অ্যাসেসমেন্ট মেথডলজি’ ব্যবহার করে কোনো দেশের প্রস্তুতি যাচাই করা হয়।

গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশ এই ইউনেস্কো কাঠামোতে যুক্ত হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পলিসি নয়—ডেটা প্রোটেকশন আইন, উদ্ভাবন সূচক এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার সহজীকরণও একসাথে নিশ্চিত করতে হবে, তবেই এআই ব্যবহারে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া যাবে।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *