এক বছরেও অপূর্ণই রইল উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশের প্রতিশ্রুতি

প্রকাশিত: 8:57 am, August 16, 2025 | আপডেট: 8:57 am,

এক বছরেও অপূর্ণই রইল উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশের প্রতিশ্রুতি
এক বছরেও অপূর্ণই রইল উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশের প্রতিশ্রুতি

ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ক্ষমতা গ্রহণের দুই সপ্তাহের মাথায় গত বছরের ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—শিগগিরই তার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা নিজেদের আয় ও সম্পদের বিবরণী জনগণের সামনে প্রকাশ করবেন।

কিন্তু এক বছর পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেয়নি। উপদেষ্টাদের আয়-সম্পদের হিসাব প্রকাশ হয়নি এখনো। বরং এ সময়ের মধ্যে উপদেষ্টা, তাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একের পর এক অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপদেষ্টারা।

অধ্যাপক ইউনূসের ভাষণের পর উপদেষ্টাদের সম্পদ প্রকাশে সরকার একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছিল। পরিকল্পনা ছিল পর্যায়ক্রমে সব সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও এটি নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে। কিন্তু কার্যত নীতিমালা কাগজেই রয়ে গেছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। অন্তর্বর্তী সরকার চাইলে একটি নতুন নজির স্থাপন করতে পারত। কিন্তু সেটিও হয়নি। তার মন্তব্য—“ঘটনাটা অনেকটা শেখ হাসিনার মতো হলো। উনারাও নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সম্পদ-তথ্য প্রকাশ করবেন। কিন্তু তা হয়নি। বর্তমান সরকারও সেই পথেই হাঁটছে।”

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সম্পদের তথ্য প্রকাশ না হলে প্রশ্ন উঠবে—কেন লুকানো হচ্ছে? তার মতে, “এভাবে জনগণকে বঞ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে অন্য সরকারগুলোও দায় এড়ানোর সুযোগ পাবে।”

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, “পরিবর্তনের কী নমুনা এখানে হাজির হলো? এই সরকারের সামনে বড় সুযোগ ছিল—পরবর্তী সরকারের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করার। কিন্তু সেই সুযোগ হাতছাড়া হতে চলেছে।”

অধ্যাপক ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর তার হাতে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ সংস্থাগুলো যেভাবে সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে, সেটি নিয়েও সমালোচনা বাড়ছে।

সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, অধ্যাপক ইউনূস সরকারের প্রতি শুরুতে যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি। বরং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, অস্বচ্ছতা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে সরকারের সুনাম।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *