নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা, পটুয়াখালী ও ধুমকির নদীতে চলছে ইলিশ ধরার মহোৎসব

স্টাফ রিপোর্টার : লক্ষণ পাল: সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, পটুয়াখালীর ধুমকি ও আশপাশের বিভিন্ন নদীতে অবাধে চলছে ইলিশ শিকার। মৎস্য কর্মকর্তার অনুপস্থিতি, কোস্টগার্ড না পাওয়া এবং জনবল-যান সংকটের কারণে মৎস্য বিভাগ কার্যকর অভিযান চালাতে পারছে না—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রায়পুরের মেঘনা নদীর চরবংশী, হাজিমারা সুইসগেট, আলতাফ মাস্টার মাছঘাট, পুরান ভেরি, চান্দেরখাল ও সাজু মোল্লার ঘাট এলাকায় দেখা গেছে—অসংখ্য জেলে প্রকাশ্যে কারেন্ট জাল ফেলে ইলিশ ধরছেন। ধরা মাছ এসব ঘাটে প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় জেলে মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন ও হাসিম খান জানান, “অভিযান না থাকায় চারদিন ধরে নদীতে ইলিশ ধরছি। ধার-দেনার চাপে পড়ে বাধ্য হয়েই জাল ফেলছি।”
মাছ বিক্রেতারাও বলেন, “জেলেদের কাছ থেকে আমরা দাদন নিয়েছি। তারা যে মাছ ধরছে, তা না কিনলে আমাদের ক্ষতি।”
রায়পুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, “উপজেলায় একজন মৎস্য কর্মকর্তা পদায়ন হলেও তিনি এখনো যোগ দেননি। কোস্টগার্ড সহযোগিতা না করায় অভিযান কার্যকর করা যাচ্ছে না।”
অন্যদিকে পটুয়াখালীর ধুমকি উপজেলার পায়রা, পাতবুনিয়া ও লোহালিয়া নদীতেও চলছে একই চিত্র। স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দিন-রাত নদীতে জাল ফেলছে জেলেরা, এমনকি শিশু-কিশোরদেরও নামানো হচ্ছে মাছ ধরতে। ধরা ইলিশ গোপনে পাইকারদের কাছে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, “জনবল ও দ্রুতযান সংকট থাকা সত্ত্বেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন কিছু না কিছু জাল জব্দ হচ্ছে।”
অন্যদিকে বরিশাল ও চাঁদপুর অঞ্চলে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য অধিদপ্তর যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে চাঁদপুরের মেঘনা নদীর মোহনায় অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল, ২০ কেজি ইলিশ ও দুটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের বোট জব্দসহ ১৭ জন জেলেকে আটক করা হয়।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়ামুল হক বলেন, “মা ইলিশ রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জব্দকৃত মাছ সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০০৮ সাল থেকে প্রতিবছর আশ্বিন মাসে অমাবস্যা ও পূর্ণিমা মিলিয়ে টানা ২২ দিন মা ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এ বছর ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে এই অভিযান, যা চলবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।
তবে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের দুর্বল তৎপরতা ও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় নদীতে ইলিশ ধরা অব্যাহত থাকায়, “জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের উদ্যোগ কতটা সফল হবে?”—এ প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

