মানিকগঞ্জ ঐতিহাসিক ‘জুলাই ৩৬ স্মৃতিস্তম্ভ’

মো নাহিদুর রহমান শামীম : মানিকগঞ্জ জেলা শহরের একটু অদূরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক কোলঘেঁষে মানরা এলাকায় অবশেষে দৃশ্যমান হলো বহুল প্রত্যাশিত, ঐতিহাসিক ‘জুলাই ৩৬ স্মৃতিস্তম্ভ’।
এই স্থান থেকেই শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের একদফা জুলাই আন্দোলনের , যা ছড়িয়ে পড়েছিল সারা দেশে বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের ঢেউ হয়ে।
১৮ ফুট উচ্চতা ও ৬ ফুট ব্যাসের বিশাল লোহার এই স্মৃতিস্তম্ভে খোদাই করা আছে আন্দোলনের অগ্নিঝরা স্লোগান-
‘জেগে উঠো বাংলাদেশ, জুলাই মানে জাগরণ, তোমার রক্ত বৃথা যাবে না।’
এছাড়াও স্তম্ভের গায়ে যুক্ত করা হয়েছে তৎকালীন আন্দোলনের আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক স্লোগান।
আধুনিক সিএনসি কাটিং প্রযুক্তিতে নির্মিত এসব অক্ষর যেন মনে করিয়ে দেয় ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রতিবাদের ভাষা, জাতির সাহস, এবং আত্মত্যাগের প্রতিধ্বনি। পুরো স্থাপনাটিই ইতিহাস ও আধুনিকতার এক প্রতীকী সংমিশ্রণ।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক জেলা আহ্বায়ক, কলেজ শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন,”জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি জাতির প্রতিবাদের প্রতীক, সাহসের স্মারক এবং নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার আলোকস্তম্ভ। এটি ইতিহাসের নিদর্শন যেমন, তেমনি ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শকও।”
মানিকগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাজু মল্লিক জানান,
“আধুনিক সিএনসি কাটিং প্রযুক্তিতে নির্মিত উন্নতমানের ভারী লোহা ব্যবহার করে স্মৃতিস্তম্ভটি তৈরি করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টাকা, যা সম্পূর্ণভাবে গণপূর্ত বিভাগের নিজস্ব অর্থায়নে সম্পন্ন হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে উদ্ভূত এক ঐতিহাসিক গণজাগরণ। সুপ্রিম কোর্টের বৈষম্যবিরোধী রায়ের পর শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে ছড়িয়ে পড়া এ আন্দোলন দ্রুতই জনঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়, যেখানে দেশের বহু তরুণ প্রাণ হারান। তাদের স্মরণে সারাদেশে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের অংশ হিসেবেই মানিকগঞ্জে স্থাপিত হলো এই ‘জুলাই ৩৬ স্মৃতিস্তম্ভ’।
জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা গণমাধ্যমকে বলেন,”এই স্মৃতিস্তম্ভ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসের সাক্ষ্য হয়ে থাকবে। এখান থেকে নতুন প্রজন্ম শিখবে কিভাবে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশকে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়া যায়।”
“জুলাই ৩৬” স্মৃতিস্তম্ভ শুধু অতীতের আন্দোলনের সাক্ষ্য নয়, এটি নতুন প্রজন্মকে ন্যায়, সমতা ও মানবিক মূল্যবোধে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানায়। মানিকগঞ্জের এই স্মারক ভবিষ্যতের প্রতিটি নাগরিককে মনে করিয়ে দেবে-অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বরই ইতিহাস গড়ে।

