ঢাকা বিভাগীয় খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন — নিয়ম মেনে স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে লটারি প্রক্রিয়া

আসাদুল ইসলাম: ঢাকা বিভাগীয় খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগে ‘নজিরবিহীন অনিয়ম’ হয়েছেএমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সাধারণ ঠিকাদারদের একটি বৃহৎ অংশ।
তারা জানান, দীর্ঘ ২০ বছর পর খাদ্য অধিদপ্তর নতুন করে পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগের উদ্যোগ নেয়। সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতা বজায় রেখে, লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার প্রভাব, অনিয়ম বা সিন্ডিকেটের সুযোগ নেই।
খাদ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, এ বছর প্রথমবারের মতো তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর লটারি পদ্ধতিতে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়। জমা পড়া ৭৮৪টি ফরম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে নির্ধারিত নিয়মে লটারি করা হয়।
একজন কর্মকর্তা বলেন, লটারিতে কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল না। সকল প্রক্রিয়া লিখিতভাবে রেকর্ড করা হয়েছে। ভিডিও ধারণও করা হয়েছে।
ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার: খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যেসব ঠিকাদার বহু বছর ধরে একচেটিয়া কাজ পেয়ে আসছিলেন, তাদের একটি গোষ্ঠী এবার যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন ঠিকাদার নির্বাচিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ। তারা টেন্ডার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা অপপ্রচারে নেমেছেন।
একজন নতুন ঠিকাদার বলেন, যারা বছরের পর বছর সাধন চন্দ্র সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিত গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করতেন, তারাই এখন মিডিয়ায় মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছেন। তারা চায় না নতুন ঠিকাদার আসুক।
খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জামাল হোসেন বলেন, আমরা সবকিছু পিপিআর অনুযায়ী করেছি। অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। তবুও অভিযোগ পেলে তদন্ত করা আমাদের দায়িত্ব— তাই তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সত্য উদঘাটিত হলে সবাই দেখবে, অভিযোগকারীরাই প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারী।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে আওয়ামী লীগের দোসরদের কিছু প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পূর্বের সিন্ডিকেট পুনরায় ফিরিয়ে আনতে চায়। তারা বর্তমান সরকারের স্বচ্ছ টেন্ডার ব্যবস্থাকে ভণ্ডুল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি।
খাদ্য অধিদপ্তরের নতুন এই পদক্ষেপকে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহির নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অতীতের একচেটিয়া দখলদারিত্ব ভেঙে নতুন উদ্যোক্তারা সুযোগ পাচ্ছেন এটিই মূলত পুরোনো সিন্ডিকেটের অস্বস্তির কারণ বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

