ওএমএস এর চাল-আটা আত্মসাতের অভিযোগ: সাংবাদিককে মারধর, তদারকি কর্মকর্তার যোগসাজশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর ধোলাইপাড় কবরস্থানের সামনে অবস্থিত ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) ডিলার পয়েন্টে সরকারি চাল ও আটা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ডিলার লায়েবুর রহমানের বিরুদ্ধে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিকেল ৫টা পর্যন্ত ট্রাকে চাল ও আটা বিক্রির কথা থাকলেও, বুধবার বিকেল ৪টার আগেই অর্ধেক মালামাল বিক্রি না করেই ট্রাক নিয়ে স্থান ত্যাগ করেন ডিলার লায়েবুর রহমান।
এসময় দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমাদেরকে চাল ও আটা না দিয়েই ট্রাক চলে যায়। আমরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম, কিন্তু ডিলার আগেভাগেই বিক্রি বন্ধ করে দেয়।”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সাংবাদিক বিষয়টি তদারকি কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামকে ফোনে অবহিত করলে, তিনি সঙ্গে সঙ্গে ট্রাকটি ফিরিয়ে আনার জন্য ডিলারকে নির্দেশ দেন। পরে ট্রাকটি ফিরে এলে দরিদ্র ক্রেতারা ডিলারকে চোর বলে গালাগালি দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ১০-১৫ জনকে চাল ও আটা দিয়ে ট্রাকটি আবার চলে যায়।
দরিদ্র ক্রেতাদের গালাগালি খাওয়ার জন্য ডিলার লায়েবুর রহমান সাংবাদিকের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকের কলার ধরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন,
“আমি সব মাল বাহিরে (কালোবাজারে) বিক্রি করে ফেলব, তোর কি!”
এ বিষয়ে তদারকি কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামকে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “এখনও অতিরিক্ত মালগুলোর ব্যালেন্স দেখানো হয়নি।”
তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন বিকেল ৫টার মধ্যেই খাতায় স্বাক্ষর করে মালের হিসাব দেখানো বাধ্যতামূলক, যা তিনি করতে ব্যর্থ হন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ওএমএস ডিলার ও তদারকি কর্মকর্তার যোগসাজশে সরকারি খাদ্যপণ্য বাহিরে (কালোবাজারে) বিক্রি করা হচ্ছে, যার ফলে প্রকৃত দরিদ্ররা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি এলাকাবাসীর দাবি — ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে ডিলার লায়েবুর রহমানের ডিলারশিপ স্থগিত বা বাতিল করা হোক। এবং তদারকি কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

