রাজউকের অসাধু কর্মকর্তাদের মদদে বনশ্রীতে গড়ে উঠছে অনুমোদনবহির্ভূত আব্দুল্লাহ হোমস লিমিটেডের বহুতল ভবন

প্রকাশিত: 7:17 pm, November 26, 2025 | আপডেট: 7:17 pm,

রাজউকের অসাধু কর্মকর্তাদের মদদে বনশ্রীতে গড়ে উঠছে অনুমোদনবহির্ভূত আব্দুল্লাহ হোমস লিমিটেডের বহুতল ভবন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বনশ্রী জি-ব্লকের ৬ নম্বর রোডে রাজউকের অনুমোদনবহির্ভূতভাবে গড়ে উঠছে ‘আব্দুল্লাহ হোমস লিমিটেড’-এর একটি বহুতল ভবন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনটির আটতলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও নেই ন্যূনতম নিরাপত্তাব্যবস্থা, মানা হচ্ছে না ইমারত নির্মাণ বিধিমালা। এলাকাবাসীর অভিযোগ—রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই অনিয়মের পর অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে ভবনটির মালিকপক্ষ।

 

ভবনটির পাশ দিয়ে চলাচল করা স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণসামগ্রী ও মাটি–বালু রাস্তা জুড়ে রাখার ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। ভবন থেকে পড়ে আসা পানি ও ভাঙা ইট অনেক সময় পথচারীর গায়েও লাগে বলে দাবি তাদের।

 

একজন বাসিন্দা বলেন, ভবনটির সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়া এখন আতঙ্কের বিষয়। ইট বা ভারী কিছু পড়ে গেলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মালিকপক্ষের প্রভাবের কারণে কিছুই বলতে পারি না।

 

আরেকজন বলেন, গণমাধ্যম বিষয়টি তুলে ধরলে হয়তো এলাকার পরিবেশটা ফিরতে পারে। নির্মাণশ্রমিক ও আশপাশের মানুষের জন্য নেই ন্যূনতম সেফটি

 

ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, বহুতল ভবনে প্রতিটি তলা সম্পন্ন হওয়ার পর বাধ্যতামূলকভাবে চারপাশে টিন সেট বা সেফটি নেট বসাতে হয়। শ্রমিকদের হেলমেট, সেফটি বেল্ট, সেফটি সু ও অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের নিয়মও স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

 

কিন্তু ভবনটিতে নেই কোনো সেফটি নেট, নেই শ্রমিকদের জন্য সুরক্ষা সামগ্রী। উন্মুক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ চলছে—যা আশপাশের মানুষের জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

 

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল—মাত্র তিন মাসে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে ২০–২৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবুও সেফটি বিধান মানতে অনীহা মালিকদের।

 

এ ব্যাপারে মালিক নাসির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কিছুদিনের মধ্যেই সেফটির ব্যবস্থা হবে। তবে কাজের অগ্রগতি দেখে প্রশ্ন উঠেছে একটি আটতলা ভবন নির্মাণ শেষে সেফটি নেট বসিয়ে কী লাভ?

অভিযোগ রয়েছে, শুরু থেকেই রাজউকের কিছু কর্মকর্তা ম্যানেজ” থাকায় এসব অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভবনটি তদারকির দায়িত্বে থাকা ইমারত পরিদর্শকের সঙ্গে ‘মোটা অংকের টাকার’ বিনিময়ে মালিকপক্ষ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। রাজউকের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১ বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমার অফিসার সেখানে গিয়েছে কি-না, আমি জানি না। জনবল কম থাকার কারণে অনেক কিছু চোখ ফাঁকি দিয়ে হয়। গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা অনিয়ম জানতে পারি। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন চোখ ফাঁকি দিলে যদি আটতলা ভবন তৈরি হয়ে যায়, তাহলে রাজউকের নজরদারি প্রশ্নবিদ্ধ হয় না কেন?

 

রাজধানীতে প্রতিদিনই নতুন ভবন নির্মাণ হচ্ছে, কিন্তু বেশিরভাগ ভবনেই নেই নিরাপত্তাব্যবস্থা। ফলে নগরজীবন পরিণত হচ্ছে সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসে। বনশ্রীর মতো সুশৃঙ্খল এলাকায়ও যদি এভাবে নীতিমালা ভেঙে ভবন গড়ে ওঠে, তবে যে কোনো সময় বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *