খিলগাঁওয়ে ওএমএস চাল–আটা কালোবাজারি: ডিলার ও ড্রাইভার গ্রেফতার, ১১৪ বস্তা পণ্য জব্দ

নিউজ ডেস্ক:
রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন নন্দীপাড়া গোলারবাড়ি এলাকায় সরকারি ওএমএস পণ্য কালোবাজারির অভিযোগে বিপুল পরিমাণ চাল–আটা জব্দ করেছে পুলিশ। ঘটনায় ওএমএস ডিলার আলী ও ট্রাকচালক মিলনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া পাঁচজনকে আসামি করে আরও ১০–১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে খিলগাঁও থানায় মামলা (নং-৫১, তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০২৫) দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ২৫ নভেম্বর বিকেল ৪টার দিকে এএসআই মো. আবু হানিফের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম গোপন সংবাদে অভিযান চালায়। নন্দীপাড়া গোলারবাড়ি এলাকায় জনৈক মিজানুর রহমানের ভাঙ্গারির দোকানের সামনে পাকা রাস্তায় পিকআপে করে ওএমএস পণ্য অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। পুলিশ উপস্থিত হলে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করে, এ সময় দুইজনকে আটক করা সম্ভব হয়। বাকি পাঁচজন দৌড়ে পালিয়ে যায়।
অভিযানে খোলা আটা ১৬ বস্তা, প্যাকেট আটা ৪১ বস্তা, ২৫ কেজির ৪০ বস্তা চাল, ৫০ কেজির ১৭ বস্তা চালসহ মোট ১১৪ বস্তা ওএমএস পণ্য এবং ঢাকা মেট্রো ন-১৩-৬৩১৫ নম্বরের একটি ট্রাক জব্দ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আটক ডিলার আলী ও ড্রাইভার মিলন জানায়, এসব পণ্য খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক খোলা বাজারে বিক্রির জন্য সরবরাহ করা হয়েছিল। কিন্তু পলাতক আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে এসব ওএমএস পণ্য কালোবাজারি করে আসছিল। তারা চাল–আটা খোলা বাজারে বিক্রি না করে মজুত করার উদ্দেশ্যে শ্যামপুরের পলাতক আসামি জুরাইন বাজার বালুর মাঠ এর শহিদুল ইসলাম বাবুর (২৫) নিকট পৌঁছে দিতে ট্রাকে করে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিল।
পুলিশ জানায়, আটকরা কোনো বৈধ কাগজপত্রও দেখাতে পারেনি। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ সালের ২৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডিলার আলী ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ওএমএস পণ্য বাজারে বিক্রি না করে বিভিন্ন গুদামে মজুত করতেন। গ্রাহকদের না দিয়ে পণ্য গোপনে পাচার করার অভিযোগও রয়েছে।
খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ বলেন, “জব্দ করা সব চাল–আটা থানায় রাখা হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর। জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে অন্য ডিলার বা ব্যক্তি জড়িত প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশের এই অভিযানকে স্থানীয়রা স্বাগত জানিয়েছেন এবং ওএমএস পণ্যের অবৈধ বেচাকেনা বন্ধে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

