মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৩৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পরিশোধে চূড়ান্ত নোটিশ: অনাদায়ে হতে পারেন নির্বাচনে অযোগ্য

জুলাই গণহত্যা মামলার আসামীর সঙ্গে যৌথ ব্যবসা ঘিরে সমালোচনা, মান্নার নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বগুড়া বড়গোলা শাখা ‘আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা খেলাপি ঋণ পরিশোধে চূড়ান্ত নোটিশ জারি করেছে। ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের ওই নোটিশে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরীকে অবিলম্বে টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন ইসলামী ব্যাংকের বগুড়া শাখা প্রধান মো. তৌহিদ রেজা (সিডিসিএস)।
এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা চলছে, যে দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের সমালোচক হিসেবে পরিচিত মাহমুদুর রহমান মান্না ব্যবসায় অংশীদার করেছেন আওয়ামী লীগেরই এক প্রভাবশালী নেতাকে—যিনি বগুড়ার বহুল আলোচিত জুলাই গণহত্যার ৯টি মামলার অভিযোগে পলাতক এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি।
এই দ্বৈত অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা বাড়ছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—যে দলের বিরুদ্ধে তিনি নিয়মিত রাজনৈতিক বক্তব্য দেন, সেই দলের এক বিতর্কিত নেতাকেই কীভাবে তিনি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন।
ইসলামী ব্যাংকের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে—২০১০ সালে আফাকু কোল্ড স্টোরেজকে ২২ কোটি টাকার বিনিয়োগ অনুমোদন করা হয়। কিন্তু নিয়মিত মুনাফা, সার্ভিস চার্জ এবং জরিমানা পরিশোধ না করার ফলে বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। ব্যাংক বলেছে, বিভিন্ন সময়ে নোটিশ পাঠানো হলেও ঋণ পরিশোধে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ব্যাংকের ভাষ্য—প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধ না করাকে তারা “ইচ্ছাকৃত খেলাপি আচরণ” হিসেবে দেখছে।
ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা প্রতিষ্ঠান ও ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে মামলার দিকে গড়াতে পারে।
স্থানীয় কিছু সূত্র দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাজাহান চৌধুরী গত ১৯ আগস্ট ২০২৪ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। পুলিশের বিশেষ শাখার তথ্যও এতে ইঙ্গিত দেয়। এ ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠছে—প্রতিষ্ঠানের ঋণের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে কি না। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত শুরু না হলেও সন্দেহ বাড়ছে।
মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)–এর ১৬(ঠ) ধারায় বলা হয়েছে— কোনো ঋণগ্রহীতা যদি খেলাপি অবস্থায় থাকেন, তিনি সংসদ নির্বাচন করার যোগ্য নন। সেক্ষেত্রে, খেলাপি ঋণের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মান্নার প্রার্থিতা আইনি জটিলতার মুখে পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
বিষয়টি নিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্নার বক্তব্য জানতে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

