ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: বিদ্রোহী প্রার্থীদের চাপে বিএনপিতে উদ্বেগ, বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি

প্রকাশিত: 8:55 am, January 11, 2026 | আপডেট: 8:55 am,

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: বিদ্রোহী প্রার্থীদের চাপে বিএনপিতে উদ্বেগ, বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: বিদ্রোহী প্রার্থীদের চাপে বিএনপিতে উদ্বেগ, বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছেন দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীরা। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসনভিত্তিক সমঝোতা হলেও, সেই সমঝোতাকৃত আসনগুলোতেই একাধিক ক্ষেত্রে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এতে দলীয় ভোট বিভক্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা নির্বাচনী ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে জোট প্রার্থী কিংবা ধানের শীষের বিপক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ইতোমধ্যে ৯ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। দলটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত যারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না, তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, সারা দেশে বিদ্রোহী প্রার্থীদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রথম ধাপে কেন্দ্র থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মনোনয়ন প্রত্যাহারে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে। তবে কেউ দলীয় সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানালে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

বরিশাল-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সোবহান। কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে বিএনপির প্রার্থী কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া হলেও সেখানে বিদ্রোহী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস এম এ মতিন খান।

কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর) আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরীর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন দলের আরেক উপদেষ্টা আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া এলডিপির সাবেক মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম শাওন। কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালামের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রয়াত সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) আনোয়ারুল আজিমের কন্যা সামিরা আজিম দোলা এবং কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শাহ আলমসহ একাধিক নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

নড়াইলের দুই আসন, পটুয়াখালী-৩, মুন্সিগঞ্জ-১ ও ৩, শেরপুরের দুই আসন, নেত্রকোনা-৩, সিলেট-৫, গোপালগঞ্জের দুই আসন এবং বাগেরহাটের তিনটি আসনেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। পটুয়াখালী-৩ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুনকে ইতোমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “তফসিল অনুযায়ী এখনো প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়নি। আশা করছি, দলের বিদ্রোহীরা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন। অন্যথায় দল বাধ্য হয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপি একটি বড় দল। এখানে যোগ্য প্রার্থীর অভাব নেই। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর। এ সময় ৬০টিরও বেশি আসনে শতাধিক প্রার্থী দলীয় পদে থেকেও স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন। যাচাই-বাছাইয়ে অন্তত ৩০ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তি চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *