জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে’—এমন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির সংঘর্ষ

প্রকাশিত: 9:23 am, January 11, 2026 | আপডেট: 9:23 am,

জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে’—এমন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির সংর্ঘষ
জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে’—এমন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির সংঘর্ষ

ভোলার লালমোহন উপজেলায় ‘জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে’—এমন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত আটটার দিকে উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদবাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে। আহতদের লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভোলা জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে রায়চাঁদবাজারসংলগ্ন নির্মাণাধীন সড়কে উভয় পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।

খবর পেয়ে নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় সংঘর্ষে জড়িত একপক্ষ নৌবাহিনীর একটি গাড়িতে হামলার চেষ্টা করে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ৯ থেকে ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে রাত ৯টার দিকে লালমোহন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াত-সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বাংলাদেশ উন্নয়ন পার্টির (বিডিপি) মহাসচিব নিজামুল হক। সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের আমির আবদুল হক, সেক্রেটারি জেনারেল রুহুল আমিনসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিজামুল হক অভিযোগ করেন, রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদবাজার এলাকায় জামায়াতের নারী কর্মীদের একটি বৈঠক শেষে এক নারী নেত্রীকে বিএনপির কর্মী রুবেল লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যায় তিনি ৩০–৪০ জন নেতাকর্মী নিয়ে জামায়াত কার্যালয়ে যাওয়ার সময় বিএনপির দুই শতাধিক কর্মী পেছন থেকে হামলা চালান। এতে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং জামায়াতের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন।

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল বলেন, জামায়াত নেতারা ‘জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে’—এমন বক্তব্য দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছিলেন, যা থেকেই উত্তেজনার সূত্রপাত। তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করেন। তবে পরে পুনরায় সংঘর্ষে বিএনপির ১৫–১৬ জন নেতাকর্মী আহত হন। তার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগকে তিনি ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন। এ ঘটনায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানান তিনি।

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউল ইসলাম বলেন, জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে বাগবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ‘জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে’—এমন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বলে শোনা গেলেও এর সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানান তিনি।

ওসি আরও বলেন, উভয় পক্ষ বাজার এলাকায় লোকজন জড়ো করে এবং রাস্তা সংস্কারের জন্য রাখা ইট একে অপরের দিকে ছোড়ে। এতে অন্তত ৯ জন আহত হন। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি এবং ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা হয়নি।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *