জুরাইন ট্রাফিক পুলিশ বক্স থেকেই অবৈধ বিদ্যুৎ! টিআই রফিকের ছত্রছায়ায় চলছে হকারদের দোকান

প্রকাশিত: 2:27 pm, January 11, 2026 | আপডেট: 2:27 pm,

জুরাইন ট্রাফিক পুলিশ বক্স থেকেই অবৈধ বিদ্যুৎ! টিআই রফিকের ছত্রছায়ায় চলছে হকারদের দোকান

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর জুরাইনে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালনের জায়গা হিসেবে পরিচিত জুরাইন ট্রাফিক পুলিশ বক্স। সেই বক্স থেকেই নাকি চলছে হকারদের দোকানের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ! সরেজমিন তদন্তে উঠে এসেছে এমন এক চিত্র, যা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিজেদের আচরণ নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দেয়।

 

গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ট্রাফিক পুলিশ বক্সের দোতলায় ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম যে রুমটি ব্যবহার করেন, সেখান থেকেই একটি মোটা বৈদ্যুতিক তার টেনে দেওয়া হয়েছে নিচে থাকা মোবাইল সার্ভিসিং দোকানসহ অন্তত চারটি দোকানে।

 

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি এ সংযোগ কেউ বিনামূল্যে পায় না। প্রতি মাসেই দোকানিদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয় বিদ্যুৎ লাইনের বিনিময়ে।

 

স্থানীয় একজন হকার বলেন, বিদ্যুতের জন্য নির্দিষ্ট টাকা আমরা দিয়ে থাকি। টিআই সাহেবের লোক এসে টাকা নিয়ে যায়।

 

এই বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলামের মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার সহকারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এলাকার প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির চাপেই টিআই সাহেব মনে হয় এসব সংযোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন।

 

তবে, তিনি চাপের কথা উল্লেখ করলেও এ কথা অস্বীকার করতে পারেননি যে বিদ্যুৎ পুলিশ বক্স থেকেই নেওয়া এবং তা নিয়ম বহির্ভূত।

 

পুলিশ বক্সের সরকারি বিদ্যুৎ লাইন ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা স্পষ্টতই বিদ্যুৎ আইন ২০১৮ এবং সরকারি সম্পদ ব্যবহার নীতিমালা লঙ্ঘন।

 

এই ধরনের অবৈধ সংযোগের কারণে সরকার হারাচ্ছে সরকারি রাজস্ব। এলাকায় তৈরি হচ্ছে নতুন বিদ্যুৎ চুরি চক্র। আইন রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জনসাধারণের বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলছেন এ অঞ্চলে যখন সাধারণ মানুষ একটি অতিরিক্ত বাল্ব চালাতেও মিটার দেখে চিন্তায় থাকে, তখন ট্রাফিক পুলিশের বক্স থেকেই যদি অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়, তবে সরকার আইন প্রয়োগ করবে কোথায়?

 

সরকারি দায়িত্ব পালনকারী একজন ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের রুম থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন টেনে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা আইন ও নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন। বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিনিময়ে মাসিক টাকা আদায়ের অভিযোগও অত্যন্ত গুরুতর।

 

এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছে স্থানীয় মানুষ।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *