যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ছয় দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনা ও হুমকির পর অবশেষে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের “বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযান” শুরু হয়েছে। এর আগে একই দিনে ইসরায়েল তেহরানসহ ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
এই হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় ব্যাপক পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। একই সঙ্গে কুয়েতের আল-সালেম বিমান ঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে।
ছয় দেশে হামলার বিবরণঃ
সৌদি আরব:
রাজধানী রিয়াদে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি বিস্ফোরণের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত:
আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। দুবাইয়েও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
কাতার:
আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। কাতার জানিয়েছে, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আংশিকভাবে হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
কুয়েত:
আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতে আঘাত হানায় আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বাহরাইন:
মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। রাজধানী মানামায় ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
জর্ডান:
দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
ইরানের হুঁশিয়ারি
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন,
“এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব স্বার্থ এখন ইরানের বৈধ হামলার লক্ষ্য।”
ইরান আরও জানায়, তাদের পাল্টা হামলায় শত্রুদের “অনুতপ্ত হতে হবে” এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা জোরদার করার অধিকার তারা বজায় রাখবে।
শাসকগোষ্ঠী পতনই লক্ষ্য: যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য দেশটির ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটানো। এই ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একযোগে ছয়টি দেশে হামলা চালিয়ে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—যুদ্ধ শুধু ইরানের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
বর্তমানে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের শঙ্কা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
