সরকারি কর্মকর্তাদের পরিচয়ে চাকরির প্রতারণা: র্যাবের জালে সাবেক সেনাসদস্যসহ আটক ২

শাহ মোয়াজ্জেম:
সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা ও অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মোঃ তারেক সরকারসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। রবিবার (২৪ মে) র্যাবের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত মোঃ তারেক সরকার দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তিনি হোয়াটসঅ্যাপে একাধিক অ্যাকাউন্ট খুলে সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভুয়া পরিচয়ে যোগাযোগ স্থাপন করতেন। পরবর্তীতে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতেন। এ ঘটনায় বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছিল বলে জানায় র্যাব।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, মোঃ তারেক সরকার একজন চাকরিচ্যুত সেনাবাহিনীর সদস্য। ২০০৬ সালে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর তিনি তথ্য গোপন করে কারা অধিদপ্তরে চাকরি নেন এবং প্রায় ১৪ বছর কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে বিভিন্ন অপরাধীর সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। পরে বিভাগীয় মামলার কারণে সেখান থেকেও চাকরিচ্যুত হন। দীর্ঘদিন সরকারি পরিবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রতারণার জাল বিস্তার করেন।
র্যাব আরও জানায়, প্রতারণার অংশ হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন উৎস থেকে ভুয়া মোবাইল সিম ও তথাকথিত ভিআইপি সিম সংগ্রহ করতেন। এরপর সরকারি ও সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম-ছবি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে বিভিন্ন ব্যক্তির চাকরির সুপারিশ ও নিয়োগে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাতেন। একই সঙ্গে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণ করতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে, গত ছয় বছর ধরে তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং এসব প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন।
র্যাব জানায়, এ বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়ার পর একটি চৌকস দল অনুসন্ধান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে গত ২৪ মে নরসিংদী সদর এলাকার সঙ্গীতা মোড় থেকে মোঃ তারেক সরকারকে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও আলামত জব্দ করা হয়। জব্দকৃত আলামতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ফটোশপের মাধ্যমে সম্পাদিত একটি বাঁধানো ছবিও পাওয়া গেছে, যা ব্যবহার করে তিনি প্রতারণার প্রভাব বিস্তার করতেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
এদিকে, তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সহযোগী হিসেবে মোঃ পলাশ কবির (৪২) নামে আরও এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরে র্যাব ও বিজিবির যৌথ আভিযানিক দল রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকেও আলামতসহ গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।