অখণ্ড ভারতের’ ছায়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার ওপর অশনিসংকেত — জাতীয় পল্লী পার্টি (NRP)

প্রকাশিত: 5:17 pm, June 17, 2026 | আপডেট: 5:17 pm,

অখণ্ড ভারতের’ ছায়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার ওপর অশনিসংকেত — জাতীয় পল্লী পার্টি (NRP)

নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় পল্লী পার্টি (NRP)। দলটির মতে, ওই বক্তব্যে “অখণ্ড ভারত” ধারণার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত হতে পারে।

এক বিবৃতিতে জাতীয় পল্লী পার্টির (NRP) চেয়ারম্যান হাজী হালিম রাজ বলেন, নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশে প্রবেশের পর দুই দেশের জনগণকে একসঙ্গে উল্লেখ করে যে মন্তব্য করেছেন, তা সাধারণ কূটনৈতিক সৌজন্যের গণ্ডি অতিক্রম করে রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে। তিনি বলেন,

“বাংলাদেশের জনগণ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাগরিক। তাদের পরিচয়, মর্যাদা ও জাতীয় সত্তাকে অন্য কোনো রাষ্ট্রের জনগণের সঙ্গে একীভূতভাবে উপস্থাপনের কোনো সুযোগ বা অবকাশ নেই। ‘অখণ্ড ভারতের’ যে কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইঙ্গিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল।”

হালিম রাজ আরও বলেন, বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট, সীমান্তে পুশ-ইন ইস্যু এবং দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এ ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এমন মন্তব্য জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জাতীয় পল্লী পার্টির মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয় লাখো মানুষের আত্মত্যাগ, দীর্ঘ সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে। ফলে সার্বভৌমত্ব, জাতীয় মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় স্বাতন্ত্র্যের প্রশ্নে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা বা আপসের সুযোগ নেই। বিদেশি কূটনীতিকদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতি ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা উচিত বলেও দলটি মনে করে।

বিবৃতিতে সরকারকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ভবিষ্যতে কোনো বিদেশি কূটনীতিকের বক্তব্য যাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর বার্তা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

হালিম রাজ বলেন, “বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পক্ষপাতী। তবে সেই সম্পর্ক অবশ্যই পারস্পরিক সম্মান, সমমর্যাদা এবং একে অপরের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অকুণ্ঠ শ্রদ্ধার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। বন্ধুত্ব কখনোই জাতীয় স্বার্থের বিনিময়ে হতে পারে না।”

বিবৃতির শেষে জাতীয় পল্লী পার্টি দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সচেতন, দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বাংলাদেশের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় স্বাতন্ত্র্য রক্ষাই প্রতিটি নাগরিকের সর্বোচ্চ অঙ্গীকার হওয়া উচিত।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *