ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র: চট্টগ্রাম চেম্বারে পল ফ্রস্ট

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম: বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে আরও কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত চেম্বারের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পল ফ্রস্ট বলেন, তাঁর এ সফরের মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করা এবং তাদের প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়া। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা চাইলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে পারেন। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আরও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দেশের তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। তাই দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার এখনই উপযুক্ত সময়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে করিডোর, এক্সপ্রেসওয়ে, এমআরটি, বন্দর উন্নয়নসহ বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে মার্কিন বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এসব খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে উভয় দেশই লাভবান হবে।
চট্টগ্রামের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি মাতারবাড়ী ও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রাম বে-টার্মিনাল এবং অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারের ঘোষিত ফ্রি-ট্রেড জোনে বিনিয়োগের সুযোগ গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।
সভায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ডেপুটি পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কাউন্সেলর ডেভিড মু বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে অনেক মার্কিন কোম্পানি বাংলাদেশে সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ব্যবসার প্রতিবন্ধকতা কমানো গেলে দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে মার্কিন পণ্যের সুনাম রয়েছে। তারা বাংলাদেশে আয়োজিত বিভিন্ন ব্যবসায়িক সম্মেলন ও প্রদর্শনীতে মার্কিন উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
এ ছাড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের জন্য ভিসা ও পাসপোর্টসংক্রান্ত সেবা আরও সহজ করা, চট্টগ্রামে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলার অফিস স্থাপন, ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়েতে মার্কিন বিনিয়োগের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
মতবিনিময় সভায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ডেপুটি পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কাউন্সেলর ডেভিড মু, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এম এ ছালাম, সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, পরিচালক মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, সাবেক পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব ও রাহবার এ আনোয়ার, ইতালির অনারারি কনসাল মির্জা সালমান ইস্পাহানী, বিএসআরএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীর আলী হুসেইন, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট আবির বড়ুয়া, এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট তানভীর আহমেদ, পিডব্লিউসির অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর (ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন) শাদাব মাহমুদসহ ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।