নিতাইগঞ্জ আটা-ময়দা শিল্পে নতুন দিগন্তের সূচনা, নেতৃত্বে আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ

প্রকাশিত: 5:12 pm, July 18, 2026 | আপডেট: 5:12 pm,

নিতাইগঞ্জ আটা-ময়দা শিল্পে নতুন দিগন্তের সূচনা, নেতৃত্বে আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ব্যবসায়িক সাফল্য, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য সমন্বয়ে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী মহলে সুপরিচিত মুখ আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ। এবার তিনি নিতাইগঞ্জ আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। গত ১৫ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মোহাম্মদ ইকবাল আলী।

দীর্ঘদিন ধরে আটা-ময়দা শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ বর্তমানে মীম শরৎ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক হিসেবে ব্যবসায়ী সমাজের বিভিন্ন সমস্যা, শিল্পোন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে আসছেন।

ব্যবসায়ী মহলের অভিমত, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, বাস্তবমুখী চিন্তাভাবনা এবং সমন্বয়মূলক নেতৃত্ব নিতাইগঞ্জের আটা-ময়দা শিল্পকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি খাদ্যপণ্য বাজার হিসেবে পরিচিত নিতাইগঞ্জে ব্যবসায়ীদের নানা সমস্যা সমাধানে তাঁর নেতৃত্ব নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় মিল মালিকরা কঠিন সময় পার করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে তিনি বিদ্যুৎ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। একই সঙ্গে নিতাইগঞ্জে পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি স্থায়ী ও নির্ধারিত স্থান বরাদ্দের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উত্থাপন করবেন বলেও জানান।

শুধু ব্যবসায়িক নেতৃত্বেই নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও তিনি প্রশংসিত। মীম শরৎ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অসহায় মানুষের সহায়তা এবং বিভিন্ন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে তিনি ইতোমধ্যে সমাজে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁকে ব্যবসায়ী সমাজের বাইরেও সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে গেছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নারায়ণগঞ্জের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, তীব্র যানজট এবং শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণকে জেলার উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে জনপ্রতিনিধি, সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগেই একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বিনিয়োগবান্ধব নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলা সম্ভব।

ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন প্রতিকূলতার মুখোমুখিও হয়েছেন আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ। ২০২৫ সালের ১ জুন সংঘটিত বহুল আলোচিত অপহরণের ঘটনায় তিনি জীবনসংকটে পড়লেও পরদিন পটুয়াখালীর পায়রাকুঞ্জ ফেরিঘাট এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। তদন্তে তাঁর প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন অসাধু কর্মচারীর তথ্যের ভিত্তিতে অপহরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অভিযোগ উঠে আসে। তবে সেই কঠিন অভিজ্ঞতাকে পেছনে ফেলে তিনি পুনরায় ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে চলেছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, ব্যক্তিগত সংকটকে শক্তিতে রূপান্তর করে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ দৃঢ় মনোবল, অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁরা আশা করছেন, তাঁর নেতৃত্বে নিতাইগঞ্জ আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতি আরও শক্তিশালী হবে, ব্যবসায়ীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং দেশের আটা-ময়দা শিল্পের বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় শিল্পখাতকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন অভিজ্ঞ, দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্ব। ব্যবসায়ী সমাজের বিশ্বাস, সেই প্রত্যাশার অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছেন আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ। তাঁর নতুন দায়িত্ব শুধু একটি সংগঠনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘটনা নয়, বরং নারায়ণগঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতকে আরও সুসংগঠিত, আধুনিক ও গতিশীল করার একটি সম্ভাবনাময় সূচনা।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *