সাফল্যের সুতোয় স্বপ্ন বুনে বিশ্বজয়ের পথে উইন্ডি গ্রুপ

প্রকাশিত: 11:16 am, August 17, 2026 | আপডেট: 11:16 am,

সাফল্যের সুতোয় স্বপ্ন বুনে বিশ্বজয়ের পথে উইন্ডি গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৯৯৯ সালে মাত্র দুই লাইনের একটি ছোট কারখানা দিয়ে যাত্রা শুরু। ২৫ বছরের পথচলায় সেই প্রতিষ্ঠান আজ প্রায় ১৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত একটি বৃহৎ পোশাকশিল্প গোষ্ঠী—উইন্ডি গ্রুপ। পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, দূরদর্শী নেতৃত্ব, সাহস ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার গল্প।

 

গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন খানের হাত ধরে শুরু হওয়া এই পথচলায় এসেছে নানা সাফল্য ও চ্যালেঞ্জ। শুরুর দিনগুলোতে একটি শিপমেন্ট সময়মতো দিতে টানা ৭২ ঘণ্টা কাজ করা কিংবা মাত্র এক লাখ টাকার প্রয়োজন মেটাতে সারাদিন ব্যাংকে অপেক্ষা করার মতো অভিজ্ঞতাই তাঁর উদ্যোক্তা জীবনের ভিত গড়ে দেয়। তাঁর দর্শন—টাকার পেছনে নয়, কাজের পেছনে ছুটতে হবে।

 

সময়ের সঙ্গে উইন্ডি গ্রুপের পরিধি বেড়েছে। উইন্ডি এ্যাপারেলস্, তানাজ ফ্যাশন্স, হলিউড গার্মেন্টস, ভিনটেজ গার্মেন্টস, ইউনিয়ন স্পোর্টসওয়্যার, উইন্ডি ওয়াশিং, উইন্ডি লন্ড্রি, উইন্ডি ওয়েট অ্যান্ড ড্রাই প্রসেস ও উইন্ডি লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তৈরি পোশাকশিল্পে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে গ্রুপটি।

 

প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার মানুষ এই গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত। রপ্তানি বাজার প্রায় ২৫ কোটি মার্কিন ডলার। ২০৩০ সালের মধ্যে এ পরিমাণ ৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করার পাশাপাশি ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে।

 

সাফল্যের তালিকায় রয়েছে ২০২১-২২ অর্থবছরে জাতীয় রপ্তানিতে স্বর্ণপদক, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর জন্য LEED গোল্ড সনদ এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন স্বীকৃতি। মেজবাহ উদ্দিন খানও একাধিকবার সরকারের C.I.P মর্যাদা পেয়েছেন এবং BGMEA-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

ব্যবসার পাশাপাশি কর্মীদের কল্যাণ, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি। কোভিড-১৯ মহামারির মতো সংকটেও কার্যক্রম ধরে রাখার চেষ্টা করেছে উইন্ডি গ্রুপ।

 

গ্রুপের COO মো. ইসরাফিল তালুকদার বলেন, “আমরা কাজকে ভালোবাসি। কাজের স্বার্থে কখনো কারও সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করি না।”

 

প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে পরিবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্ত্রী ফারিনা খান উইন্ডি গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের সন্তানদের মধ্যেও পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে।

 

সম্প্রতি কক্সবাজারে কর্মীদের নিয়ে আয়োজিত বনভোজনেও ফুটে ওঠে প্রতিষ্ঠানটির কর্মী-কেন্দ্রিক সংস্কৃতি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও বিনোদনের মধ্য দিয়ে কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয় নতুন উদ্দীপনা ও পারস্পরিক বন্ধন।

 

এখন লক্ষ্য আরও বড়। আগামী পাঁচ বছরে আরও ১০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে উইন্ডি গ্রুপকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখছেন মেজবাহ উদ্দিন খান।

 

তাঁর ভাষায়, “বহির্বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের উইন্ডি গ্রুপকে চিরস্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই—ইনশাআল্লাহ।”



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *