কাশিয়ানীতে তিন ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ৭ নম্বর ওড়াকান্দি ইউনিয়নের আরকান্দি গ্রামে তিন ফসলি কৃষিজমি থেকে অনুমোদন ছাড়াই বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে ‘টগর’ নামে এক ড্রেজার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেজার মেশিন দিয়ে কৃষিজমি থেকে বালু উত্তোলনের পাশাপাশি এলাকার খাল-বিল ও কৃষকদের পানির উৎস ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষিকাজ ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরকান্দি গ্রামের কৃষিজমির বিভিন্ন স্থান থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিন ফসলি জমির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের খাল-বিল ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সংশ্লিষ্ট ড্রেজার ব্যবসায়ী টগরের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, কী অনুমতি বা বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতে ড্রেজার পরিচালনা করা হচ্ছে। জবাবে তিনি ভূমি অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ড্রেজার মেশিন চালানোর কথা বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে পরবর্তীতে সাংবাদিক আরও কিছু প্রশ্ন করলে তিনি সেসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি যদি বৈধ অনুমোদন ছাড়া কৃষিজমি থেকে বালু উত্তোলন করে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচিত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিককে হুমকি বা হয়রানি করা হলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, কৃষিজমি, খাল-বিল ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। বিশেষ করে তিন ফসলি জমি থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগটি সরেজমিনে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কাশিয়ানী উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিসেস পাপিয়া সুলতানা লিজা-র কাছে দাবি জানানো হয়েছে—অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
একই সঙ্গে সাংবাদিককে মোবাইল ফোনে হুমকি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও সচেতন মহল।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত টগরের বক্তব্য এবং প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।