বন্ড সুবিধায় আমদানি করা সুতা খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগ: সাদিকী ট্রেডিং কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে 

প্রকাশিত: 1:57 pm, July 20, 2026 | আপডেট: 1:57 pm,

বন্ড সুবিধায় আমদানি করা সুতা খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগ: সাদিকী ট্রেডিং কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য সরকার প্রদত্ত বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগ আবারও সামনে এসেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা বিদেশি সুতা নির্ধারিত গার্মেন্টস কারখানায় ব্যবহার না করে বিভিন্ন ট্রেডিং ও ট্রেডার্সের মাধ্যমে খোলা বাজারে বিক্রির একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের নয়ামাটিতে অবস্থিত মেসার্স সাদিকী ট্রেডিং কর্পোরেশন-এর সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কিছু রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস কারখানার মালিক সরকার প্রদত্ত বন্ড সুবিধা ব্যবহার করে বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ সুতা আমদানি করেন। নীতিমালা অনুযায়ী এসব সুতা শুধুমাত্র রপ্তানিযোগ্য পোশাক উৎপাদনে ব্যবহারের কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, এর একটি অংশ অবৈধভাবে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

একাধিক সূত্রের দাবি, এসব সুতা অসাধু গার্মেন্টস মালিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে নারায়ণগঞ্জের নয়ামাটির মেসার্স সাদিকী ট্রেডিং কর্পোরেশন দেশীয় বাজারে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে থাকে। এর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বৈধভাবে শুল্ক পরিশোধ করে সুতা আমদানি করা আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা এতে ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বিক্রি করা সুতার ক্রেতা চক্রের খুঁজে অনুসন্ধানে গিয়ে অভিযোগের সমর্থনে বেশকিছু তথ্য-প্রমাণ ও ভিডিও চিত্র হাতে পেয়েছে অনুসন্ধানকারী সাংবাদিকগণ। সংশ্লিষ্ট নথি, ভিডিও, ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য এবং অন্যান্য উপাত্ত পর্যালোচনা করে বিষয়টি আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকগণ নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করছেন। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট-এর সরজমিনে তাদের প্রকাশ্য ও গোপন গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সাদিকী ট্রেডিং কর্পোরেশনের প্রোপাইটর মাসুদ রানা’র কাছে মুঠোফোনে তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি আগে এই ব্যবসা করেছি, এখন আমার এই ব্যবসা নাই।

এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট এবং সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার জরুরি তদন্তের এবং অবৈধ সুতার গোডাউনে অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন সরকারকে পরিপূর্ণ শুল্ক দিয়ে সুতা আমদানি করা ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধ হয় এবং সরকারের রাজস্ব সুরক্ষিত থাকে। এই চক্রের প্রতিটি গোডাউনে অভিযান চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দরখাস্ত দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া চলমান আছে।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *