মেঘনার জেলেদের মানবাধিকার: উন্নয়নের আড়ালে প্রান্তিক জীবনের বাস্তবতা

প্রকাশিত: 1:34 pm, July 20, 2026 | আপডেট: 1:34 pm,

মেঘনার জেলেদের মানবাধিকার: উন্নয়নের আড়ালে প্রান্তিক জীবনের বাস্তবতা

প্রফেসর ড. আসিফ মিজান: উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয় (সোমালিয়া); সমাজ, রাজনীতি, অপরাধ ও মানবাধিকার বিশ্লেষক।

 

মেঘনা নদীকেন্দ্রিক জেলে সম্প্রদায় বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও তারা এখনও চরম দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা ও মানবাধিকার সংকটের মধ্যে জীবনযাপন করছে। উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির নানা উদ্যোগ থাকলেও এই জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি।

 

জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার (UDHR) আলোকে দেখা যায়, দাদননির্ভর ঋণব্যবস্থা, ন্যায্য পারিশ্রমিকের অভাব, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, জলবায়ুজনিত ঝুঁকি, নিরাপদ বাসস্থানের সংকট এবং শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়া—সব মিলিয়ে জেলেরা কাঠামোগত বৈষম্যের শিকার। বিশেষ করে জেলে পরিবারের শিশুদের বড় একটি অংশ আর্থিক সংকটে অল্প বয়সেই শিক্ষাজীবন ছেড়ে শ্রমে যুক্ত হতে বাধ্য হয়।

 

আন্তর্জাতিকভাবে জাপানের মৎস্যজীবী সমবায় ব্যবস্থা এবং চিলির জলসীমাভিত্তিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা ক্ষুদ্র জেলেদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশেও এমন অংশগ্রহণমূলক ও অধিকারভিত্তিক মডেল অনুসরণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন লেখক।

 

তিনি মনে করেন, কেবল এনজিওভিত্তিক সীমিত উদ্যোগ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মানবাধিকারভিত্তিক নীতিমালা গ্রহণ জরুরি। এ জন্য সহজ শর্তে মৎস্য ঋণ, দাদন প্রথার বিকল্প অর্থায়ন, সমবায়ভিত্তিক বাজার ব্যবস্থা, নিষেধাজ্ঞাকালে বিকল্প কর্মসংস্থান, জেলে সন্তানদের জন্য বিশেষ শিক্ষা ও বৃত্তি, এবং প্রকৃত জেলেদের জলমহালের অধিকার নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

 

লেখকের মতে, মেঘনার জেলেরা করুণার নয়, বরং সাংবিধানিক ও মানবাধিকারসম্মত নাগরিক অধিকার পাওয়ার দাবিদার। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে তাদের জীবনমান, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র, নীতিনির্ধারক এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *