ঢাকায় ওএমএস কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, দৈনিক রোস্টার পুনরায় প্রকাশের দাবি

প্রকাশিত: 10:00 am, May 12, 2026 | আপডেট: 10:00 am,

খাদ্য মন্ত্রনালয়
ঢাকায় ওএমএস কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, দৈনিক রোস্টার পুনরায় প্রকাশের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পরিচালিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচি ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাল ও আটা বিক্রির দৈনিক রোস্টার পুনরায় ওয়েবসাইটে প্রকাশের দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, ওএমএস কার্যক্রমের মাধ্যমে নিম্নআয়ের মানুষ স্বল্পমূল্যে চাল ও আটা ক্রয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীতে ঢাকা রেশনিংয়ের ডিলারদের মাধ্যমে পরিচালিত এ কার্যক্রম সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জানা গেছে, কিছুদিন আগ পর্যন্ত প্রতিদিন কোন পয়েন্টে কোন ডিলারের মাধ্যমে ওএমএস কার্যক্রম পরিচালিত হবে তার বিস্তারিত রোস্টার নিয়মিতভাবে ঢাকা রেশনিংয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হতো। ফলে সাধারণ জনগণ, সাংবাদিক, সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন এবং দুর্নীতি দমন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সহজেই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারত।

কিন্তু বর্তমানে ঢাকা রেশনিং এর ওয়েবসাইটে সেই রোস্টার আর প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষ জানতে পারছেন না কোন এলাকায় কোন দিন ওএমএস পণ্য বিক্রি হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের মাঠ পর্যায়ের তদারকিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আবেদনকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তথ্য প্রকাশ না থাকায় কিছু অসাধু ডিলার ও তদারকি কর্মকর্তার যোগসাজশে চাল ও আটা কালোবাজারে বিক্রির সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ নিয়ে জনমনে সন্দেহ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, রোস্টার প্রকাশ বন্ধ থাকায় কয়েকটি সমস্যা প্রকট হয়ে উঠছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ভোক্তারা জানতে পারছেন না কোথায় ও কবে ওএমএস কার্যক্রম চলবে;
  • গণমাধ্যম, মানবাধিকার ও নাগরিক সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত নজরদারি কমে যাচ্ছে;
  • স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হ্রাস পাচ্ছে;
  • খাদ্যপণ্য আত্মসাৎ ও কালোবাজারির ঝুঁকি বাড়ছে;
  • সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে কয়েকটি সুপারিশও করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
প্রতিদিনের ওএমএস রোস্টার খাদ্য অধিদপ্তর, ঢাকা রেশনিং ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের ওয়েবসাইটে বাধ্যতামূলকভাবে প্রকাশ করা; কোন ডিলার কোন পয়েন্টে কত পরিমাণ চাল ও আটা বিক্রি করবে তা জানানো; সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তার নাম ও মোবাইল নম্বর প্রকাশ করা; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও রোস্টার প্রচার করা; পূর্ববর্তী রোস্টার সংরক্ষণ করে উন্মুক্ত রাখা এবং রোস্টার প্রকাশে গাফিলতি হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

আবেদনকারীদের মতে, নিয়মিত রোস্টার প্রকাশ করা হলে সরকারের এই জনবান্ধব কর্মসূচিতে জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং অনিয়ম ও দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসবে।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *