দুর্গাপূজায় ফরিদপুর ও রাজবাড়ীতে কঠোর নিরাপত্তা, প্রস্তুত এসআরবি-১০

শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে ফরিদপুর ও রাজবাড়ীতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১০ (এসআরবি-১০)। নিরাপত্তা জোরদারে পিকআপ ও মোটরসাইকেল টহল, সাদা পোশাকে নজরদারি, প্রশিক্ষিত কমান্ডো, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট এবং ড্রোন টিম মোতায়েনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে ফরিদপুরের গোয়ালচামট এলাকার ওয়েস্ট এন্ড পাড়া মন্দির পরিদর্শন করেন এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান। এ সময় তিনি সাংবাদিক ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
এসআরবি-১০-এর বিশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ব্যাটালিয়নটির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৮৪১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। এর মধ্যে এসআরবি-১০-এর সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের আওতাধীন প্রায় ১ হাজার ২০১টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এসব মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ১৫টি পিকআপ পেট্রোল টিম ও ২৮টি মোটরসাইকেল টহল দল কাজ করছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত কমান্ডো, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট, ড্রোন টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এসব কন্ট্রোল রুম থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পূজামণ্ডপগুলো নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় এসআরবি-১০-এর গোয়েন্দা শাখা স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, সাম্প্রদায়িক উসকানি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ব্যাটালিয়নটির সাইবার মনিটরিং সেল সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে।
নিরাপত্তার পাশাপাশি জনসেবামূলক কার্যক্রমও হাতে নিয়েছে এসআরবি-১০। পূজামণ্ডপে আগত নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তায় হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপ এলাকায় জরুরি সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সদস্যরা নিয়মিত মণ্ডপ পরিদর্শন করে দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দিচ্ছেন।
এদিকে, পূজাকে কেন্দ্র করে যানজট ও অতিরিক্ত জনসমাগমের কারণে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে এসআরবি-১০। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যাটালিয়নটির মোবাইল টিমও প্রস্তুত রয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসআরবি-১০ জানায়, ধর্মীয় উৎসব বাংলাদেশের বহুধর্মীয় সমাজের ঐক্য, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের প্রতীক। তাই সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।
একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা উদযাপনে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী এবং সর্বস্তরের নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেছে এসআরবি-১০।
বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন সহকারী পুলিশ সুপার লিজা আক্তার, সহকারী পরিচালক (মিডিয়া), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১০।