নির্দিষ্ট কোম্পানির সিন্ডিকেটের কবলে পশুখাদ্যের টেন্ডার

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পশুখাদ্য সরবরাহের টেন্ডারকে ঘিরে অনিয়ম ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পিপিআর-২০২৫ এর প্রতিযোগিতামূলক নীতিকে পাশ কাটিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন হাঁস-মুরগি খামার, গরু ও ছাগল উন্নয়ন কেন্দ্রে চলতি বছরের পশুখাদ্য সরবরাহের জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় দরপত্র আহ্বান করেছে।
তবে একাধিক ঠিকাদারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এসব টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ফ্যাসিস্ট সরকার পরিবর্তনের পরও সেই প্রভাব বহাল রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের সাবেক এপিএস হিল্টন কুমার সাহার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি চক্র বিভিন্ন জেলার পশুখাদ্য সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। এ চক্রের সঙ্গে সাভারের ঠিকাদার হাফিজুর রহমান ও ঢাকার বিমল কুমারের নামও উঠে এসেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিবছর একই ব্যক্তিরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে দরপত্রে অংশ নিয়ে কাজ বাগিয়ে নিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, টেন্ডারে এমন শর্ত ও স্পেসিফিকেশন যুক্ত করা হচ্ছে যা নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির পণ্যের সঙ্গে মিল রয়েছে। ফলে ওই কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ কার্যত অংশ নিতে পারছে না। এতে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয় ও নিম্নমানের পশুখাদ্য সরবরাহের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় হাঁস প্রজনন খামার নারায়ণগঞ্জসহ জয়পুরহাট, পাবনা, বগুড়া, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, বরিশাল ও পাহাড়তলী মুরগি প্রজনন খামারের টেন্ডার নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া সাভার, বরিশাল, সিলেট, ফরিদপুর ও রাজশাহীর গোপ্রজনন ও দুগ্ধ খামার এবং কয়েকটি ছাগল উন্নয়ন খামারের টেন্ডারেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ড. এ বি এম খালেদুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তবে অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. শাহ জামান খান জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।