ফতুল্লায় ক্রয়কৃত বাড়ি নির্মাণে বাধা, ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ জামাই সালাম গংয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এলাকাবাসী

প্রকাশিত: 3:16 pm, August 28, 2026 | আপডেট: 3:16 pm,

ফতুল্লায় ক্রয়কৃত বাড়ি নির্মাণে বাধা, ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ জামাই সালাম গংয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এলাকাবাসী

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দেলপাড়া রাসেল গার্মেন্টস সংলগ্ন ক্রয়কৃত জমি, নির্মাণকাজে বাধা, শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর এবং ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে পাঁচজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. ফরহাদ।  অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত হিসেবে সালাম (৩৬), বীনা (৪৫), রাব্বি (২৪), (১৮) ও মাহমুদা বেগম (৫৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, ১ নম্বর আসামি সালাম বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ও অনিয়মমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সালামের আচরণ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে এবং তাকে তারা ‘খারাপ প্রকৃতির লোক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে অভিযোগপত্রে বলা হয়, ফতুল্লায় দেলপাড়া রাসেল গার্মেন্টস সংলগ্ন এলাকায় অভিযোগকারী মো. ফরহাদের মালিকানাধীন প্রায় ০১.৯১ শতাংশ জমি রয়েছে। নামজারি ও সরকারি খাজনা পরিশোধের যাবতীয় কাজ সম্পূর্ণ করা হলে বলপ্রয়োগ ও হুমকি প্রদান করে আসছে।

অভিযোগকারী মো. ফরহাদের দাবি, জায়গাটি ক্রয় করার পর থেকেই ২ নম্বর বিবাদী মাহমুদ বেগম ও বিনা বিভিন্নভাবে তার কাছ থেকে মানবতায় টাকা নিত। পরে এর ধারাবাহিকতায় তার অবৈধ লোভ সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন অযুহাত তৈরী করে ফরহাদ সম্মান নষ্ট হয় অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন করে আসছে এবং পাশাপাশি চলাচলের জনবল রাস্তা ও বন্ধ করে দেয় এবং ক্রয়কৃত বিল্ডিং আইনসম্মত ফাউন্ডেশন পাশ থাকা সত্তে তারা প্রতারণা মোটা অংকের টাকা দাবি।

তার অভিযোগ, মাত্র ৫ হাজার টাকা খরচ করে ড্রেন লাইন করার কথা থাকলেও সেখানে তার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এরপরও ধারাবাহিকভাবে তার বিভিন্ন কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফরহাদ আরও দাবি করেন, বাড়িটি বিক্রির সময় তাকে পাঁচতলা ভবনের ফাউন্ডেশন এবং উপজেলা প্ল্যান পাস করা আছে বলে জানানো হয়েছিল। সেই অনুযায়ী তিনি নির্মাণকাজ শুরু করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনের তিনতলা নির্মাণের সময় কোনো অভিযোগ ছিল না। চারতলা নির্মাণের সময়ও কোনো অভিযোগ করা হয়নি। কিন্তু ভবনটি কমপ্লিট পর্যায়ে যাওয়ার পর তার কাছে হঠাৎ ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

অভিযোগকারীর দাবি, ওই ৫ লাখ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে রাজউকে অভিযোগ করা হয় যে, ছয়তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ফরহাদের ভাষ্য, ভবনটি ছয়তলা নয়; ৫তলা ভবনও সম্পূর্ণ কমপ্লিট করা হয়নি, বর্তমানে চারতলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে।

ফরহাদ অভিযোগ করেন, দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় বিভিন্ন সময় তার ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে।

অভিযোগকারী ফরহাদ বলেন, তাদের পূরণ না করায় ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি নির্মাণকাজে ব্যবহৃত প্রায় ৪০০ কেজি রড ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর থানায় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির হুমকি এবং শেষ পর্যন্ত দেখে নিবেন এবং এই অভিযোগ এ থানা ডাকলেও তিনি আইন অমান্য করেন।

সর্বশেষ ২৫ আগস্ট ২০২৬ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে অভিযুক্তরা তার জমিতে গিয়ে পুনরায় ৫ লাখ টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে লাশ গুমসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় নিজের ও নিয়োজিত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন মো. ফরহাদ।

তবে লিখিত অভিযোগে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা তদন্ত বের হয়ে আসবে গুপ্ত সত্য।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *