শরীয়তপুরে পদ্মার তীররক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস, আতঙ্কে এলাকাবাসী

প্রকাশিত: 10:50 pm, October 4, 2026 | আপডেট: 10:50 pm,

শরীয়তপুরে পদ্মার তীররক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস, আতঙ্কে এলাকাবাসী

শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর মাছঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস নেমেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশে ফাটল দেখা দেওয়ার পর ১ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে ওই অংশে ধস শুরু হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, ফাটল ধরা ৫০ মিটার অংশের মধ্যে প্রায় ৩০ মিটার নদীগর্ভে ধসে পড়েছে।

 

ধসের ঘটনায় সুরেশ্বর মাছঘাট ও বাজার এলাকার ব্যবসায়ী এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নদীভাঙনের আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা দোকান ও মাছের আড়ত থেকে মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।

 

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তত ১৪টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সুরেশ্বর মাছঘাটের ১৮টি মাছের আড়ত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে সুরেশ্বর মাছের আড়ত, মাছবাজার, লঞ্চঘাট, আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।

 

বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। পাউবো জানিয়েছে, ভাঙন ঠেকাতে আপৎকালীন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান থাকবে।

 

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিল্টন হোসেন বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সুরেশ্বর মাছঘাট এলাকায় তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশে ফাটল দেখা দেয়। পরে ফাটল ধরা অংশের প্রায় ৩০ মিটার ধসে নদীতে পড়ে। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু করা হয়েছে।

 

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীর অভিযোগ, পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশের মাটি সরে গিয়ে ওই এলাকায় ভাঙন বেড়েছে। তারা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধসহ স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

তবে অবৈধ বালু উত্তোলনকে ভাঙনের কারণ হিসেবে এখনো কোনো সরকারি তদন্তে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতে, নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে তীব্র স্রোত তৈরি হয়েছে। ওই স্রোতে বাঁধের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *