সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামির মিলকে সরকারি চাল বরাদ্দ, ভোলার খাদ্য বিভাগে তোলপাড়

প্রকাশিত: 11:24 pm, September 28, 2026 | আপডেট: 11:24 pm,

সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামির মিলকে সরকারি চাল বরাদ্দ, ভোলার খাদ্য বিভাগে তোলপাড়

নিউজ ডেস্ক:

ভোলায় একাধিক ফৌজদারি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এবং আদালতের পরোয়ানাভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা এক দম্পতির মালিকানাধীন রাইস মিলের সঙ্গে খাদ্য বিভাগের ধান-চাল সংগ্রহের চুক্তি সম্পাদনের অভিযোগ উঠেছে। শুধু চুক্তি নয়, ওই মিলের অনুকূলে অতিরিক্ত চাল বরাদ্দ দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোঃ আরিফুর রহমান গত ২৪ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে হাইকোর্টে রিট পিটিশনসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভোলা সদরের ‘তাসনীম এগ্রো এন্ড অটো রাইস মিল’-এর স্বত্বাধিকারী মোসাঃ রোজিনা আক্তার এবং তার স্বামী মোঃ মনজুরুল আলম। ‘ইউনাইটেড মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, ভোলা থানা ও আদালতে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে জি.আর মামলা নং-৩৯৬/২০২১, ২০৪/২০২৩, ৬২২/২০২১, ৫৮৬/২০২১ এবং বিভিন্ন সি.আর মামলা রয়েছে। এছাড়া ভোলা সেশন জজ আদালতের সেশন কেস নং-১৮০/২০২০ ও ২৭৮/২০২০-এ তাদের বিরুদ্ধে আদালতের দণ্ডাদেশ রয়েছে বলেও নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

লিগ্যাল নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, এসব মামলা ও দণ্ডাদেশের বিষয় থাকা সত্ত্বেও খাদ্য সংগ্রহ নীতিমালা-২০১৭ অনুসরণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই না করেই ‘তাসনীম এগ্রো এন্ড অটো রাইস মিল’-এর সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ ২০২৬-এর আওতায় ১ হাজার ৭০৪ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের মূল চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, মূল চুক্তির পরও গত জুন ও সেপ্টেম্বর মাসে একাধিক স্মারকের মাধ্যমে ওই মিলের অনুকূলে আরও অতিরিক্ত চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় সাজাপ্রাপ্ত ও আদালতের পরোয়ানাভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা ব্যক্তিদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহের চুক্তি কীভাবে সম্পাদিত হলো এবং কোন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হলো—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

লিগ্যাল নোটিশে এ ঘটনাকে আইন ও সরকারি বিধিবিধান অনুসরণের ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশে যাদের উদ্দেশে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে তারা হলেন—ভোলা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ সরোয়ার আমিন, মহাপরিচালক, খাদ্য অধিদপ্তর, ঢাকা; পরিচালক, সংগ্রহ বিভাগ, খাদ্য অধিদপ্তর, ঢাকা; আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, বরিশাল; জেলা প্রশাসক, ভোলা; পুলিশ সুপার, ভোলা; উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ভোলা; ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ভোলা সদর থানা; উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, ভোলা সদর এবং ভোলার সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপক।

লিগ্যাল নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কথিত চুক্তি বাতিল, সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তাদের ব্যাংক হিসাব স্থগিতের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে হাইকোর্টে রিট পিটিশনসহ অন্যান্য আইনগত প্রতিকার চাওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ভোলা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সরোয়ার আমিনের বক্তব্য জানতে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

তবে আদালতের মামলা, দণ্ডাদেশ, পরোয়ানা, সরকারি চুক্তি ও বরাদ্দসংক্রান্ত নথিপত্রের ভিত্তিতে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে কোনো প্রতিষ্ঠানকে চুক্তি ও বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনগত অবস্থান, প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা এবং সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—তা এখন তদন্তের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *