মৃত্যুর আগে আলভীর স্ত্রী ইকরা কী কী বলেছিলেন, জানালেন বান্ধবী

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (গতকাল) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় তাঁর স্বামী জাহের আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন। রোববার তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। দেশে ফিরেই এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন আলভীর ঘনিষ্ঠজনেরা।
আজ রোববার ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল-এ ইকরার ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইকরা, সামিয়া ও খাদিজা লুপিন—এই তিনজনের বন্ধুত্ব দীর্ঘ ১১ বছরের। তাঁদের ফেসবুকে একটি গ্রুপ রয়েছে, যেখানে নিয়মিত যোগাযোগ হতো। শনিবার সকাল ১০টার পরও সেই গ্রুপে কথাবার্তা চলছিল। তবে দুপুরের দিকে খাদিজা লুপিনের কাছ থেকে খবর পান সামিয়া যে ইকরা ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। পরে জাহের আলভীর বাসার সহকারী অর্কর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হন তিনি।
সামিয়া আলম জানান, “আমরা ২৪ ঘণ্টাই এই গ্রুপে কানেক্টেড থাকি। সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটে ইকরা লিখল, সে নেপাল যাবে। আমরা ভেবেছিলাম ও রাগের মাথায় এসব বলছে। তাই শান্ত করার চেষ্টা করি। ওই দিন সন্ধ্যায় ইকরার বাসায় আমাদের ইফতারের দাওয়াতও ছিল। বলেছিলাম, ইফতার শেষে চাইলে যাস। কিন্তু ১০টা ৪৬ মিনিটের পর আর কোনো মেসেজ আসেনি। দুপুর ১টা ২৭ মিনিটে লুপিন নক করে জিজ্ঞেস করে, ‘তুই কই?’—তখনই বুঝলাম বড় কিছু হয়ে গেছে।”
ইকরা ও আলভীর সন্তান রিজিক ঘটনার সময় বাসায় ছিল বলে জানিয়েছেন সামিয়া। তিনি বলেন,,“আলভীর সহকারী অর্ক আমাকে জানিয়েছে, রিজিক বাসায় ছিল। আলভী ফোন করে বলেছিলেন, ‘তোমার ম্যাডাম পাগলামি করছে, গিয়ে দেখো।’ শোনা গেছে, ঘটনার সময় ইকরা ফোনে আলভীর সঙ্গেই কথা বলছিল।”
ইকরার আত্মহত্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা। সামিয়া আলম বলেন, “ইকরা মোটেও সুইসাইড করার মতো মেয়ে না। ও এরই মধ্যে রুম শিফট করেছিল। আলভী দেশে ফিরলে তারা একটা সিদ্ধান্তে যাবে—এমন কথাই বলেছিল। ডিভোর্স, ব্যবসা শুরু করা, সন্তান রিজিককে কার কাছে রাখা হবে—এসব নিয়েই আলোচনা করছিল। হঠাৎ ফোনে আলভী কী এমন বলেছিল, যেটা সে সহ্য করতে পারেনি—আমরা কেউই জানি না। বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখা দরকার।”