ডিসি আজাদ রহমানের নেতৃত্বে রাজধানীর ব্যস্ততম প্রবেশপথে নিরবচ্ছিন্ন সেবায় ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগ

যানজট নিয়ন্ত্রণে ডিসি, এডিসি ও এসিদের নেতৃত্বে দিন–রাত কাজ করছে ট্রাফিক পুলিশ
মোঃ আনোয়ার হোসেনঃ
প্রখর রোদ, ঝুম বৃষ্টি, গাড়ীর শব্দ, রাস্তার ধূলাবালি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া—কোনো কিছুই দমিয়ে রাখতে পারে না ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগের সদস্যদের। রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশদ্বার যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, জুরাইন, পোস্তগোলা, শনির আখড়া, টিকাটুলি,দয়াগঞ্জ, ধোলাইপাড় ও স্টাফ কোয়ার্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর, সার্জেন্ট ও কনস্টেবলরা।

ট্রাফিক পুলিশ
অফিসগামী কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিক যেন নিরাপদে এবং সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, সে লক্ষ্যেই যান চলাচল সচল রাখতে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন ট্রাফিক সদস্যরা। সকাল ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে যানজট নিরসন, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, পথচারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাদের ব্যস্ততা চোখে পড়ে।
ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগের সার্বিক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ আজাদ রহমান। তাঁর দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ আবুতাহের, পিপিএম-সেবা এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মোঃ জিয়াউদ্দিন খান, মোঃ শহিদুল ইসলাম ও এ. কে. এম. নছরুত হাসান নিজ নিজ এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করছেন।
উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আজাদ রহমান বলেন, “ট্রাফিক পুলিশের প্রতিটি সদস্য জনসেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করছেন। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, মানুষের মূল্যবান সময় বাঁচানো এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। রোদ, বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া—কোনো কিছুই আমাদের দায়িত্ব পালনে বাধা হতে পারে না। নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে রাজধানীর সড়কে আরও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ট্রাফিক আইন মেনে চলা শুধু পুলিশের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকেরও দায়িত্ব। চালক, যাত্রী ও পথচারীরা সচেতন হলে যানজট কমবে, দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে এবং রাজধানীর সড়কে স্বস্তি আরও বাড়বে।”
ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাঠপর্যায়ের তদারকি, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার কারণে ব্যস্ত এলাকাগুলোতে যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়া তুলনামূলক সহজ হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। মাঠপর্যায়ে কর্মরত ট্রাফিক সদস্যদের মনোবল বাড়াতেও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সক্রিয় উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নগরবাসীর অনেকেই মনে করেন, প্রতিকূল আবহাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব। তবুও জনস্বার্থে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশের এই নিষ্ঠা, ধৈর্য ও পেশাদারিত্ব প্রশংসার দাবিদার। রাজধানীর ব্যস্ততম প্রবেশপথগুলোতে তাদের নিরলস প্রচেষ্টা প্রতিদিন হাজারো মানুষের কর্মঘণ্টা সাশ্রয়, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।