ধোলাইপাড় মোড় যেন মৃত্যুফাঁদ, নিরাপদ পারাপারের দাবিতে এলাকাবাসী

মোঃ আনোয়ার হোসেন: রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল ধোলাইপাড় মোড় বর্তমানে পথচারীদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের প্রবেশমুখের এ অংশে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার করতে হচ্ছে। ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডারপাস না থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, ধোলাইপাড় মোড়ে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ব্যক্তিগত গাড়ির অবিরাম চলাচলের মধ্যেই পথচারীরা সুযোগ বুঝে রাস্তা পার হচ্ছেন। নিরাপদ পারাপারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় শিশু, নারী ও বয়স্কদেরও একই ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
সম্প্রতি ধোলাইপাড় এলাকায় সড়ক পারাপারের সময় এক নারী বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এমন দুর্ঘটনা এখানে বিচ্ছিন্ন নয়; বরং নিয়মিত বিরতিতে দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
ধনিয়া, ধোলাইপাড় ও শনিরআখড়া এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। বিশেষ করে অফিসগামী কর্মজীবী মানুষ, পোশাক শ্রমিক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার নিত্যদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
একজন পোশাক শ্রমিক বলেন, প্রতিদিন রাস্তা পার হওয়ার সময় ভয় নিয়ে দাঁড়াতে হয়। কখন কী ঘটে যায়, সেই শঙ্কা সবসময় থাকে।
মিনা নামের এক স্কুলছাত্রী বলে, নিরাপদে রাস্তা পার হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। আমাদের জন্য একটি ফুটওভার ব্রিজ খুবই প্রয়োজন।
স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, প্রতিদিন ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। অভিভাবক হিসেবে সবসময় উদ্বেগে থাকতে হয়।
এক পরিবহন চালক বলেন, হঠাৎ করে পথচারীরা রাস্তার মাঝখানে চলে আসেন। নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা থাকলে চালক ও পথচারী উভয়ের জন্যই ভালো হতো।
এলাকাবাসীর মতে, দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ দ্রুতগতির যানবাহনের পাশাপাশি নিরাপদ পারাপার ব্যবস্থার অভাব। তারা দ্রুত একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, জেব্রা ক্রসিং স্থাপন, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক পুলিশের তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
তাদের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।