অটোরিকশা চালক অপহরণ: মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে ৪ জন গ্রেফতার, ভিকটিম উদ্ধার

প্রকাশিত: 2:52 pm, July 21, 2026 | আপডেট: 2:52 pm,

অটোরিকশা চালক অপহরণ: মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে ৪ জন গ্রেফতার, ভিকটিম উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে অটোরিকশা চালক মো. সুন্দর আলী (৪৬)-কে অপহরণ করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০। একই অভিযানে তালাবদ্ধ অবস্থায় ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-১০ জানায়, দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের চর কুন্দলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সুন্দর আলী পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ের উদ্দেশ্যে পাত্রী দেখতে গত ১৯ জুলাই ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গোলাম বাজার থেকে কোনাখোলা হয়ে রামেরকান্দা এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

পথিমধ্যে ধর্মশুর এলাকায় পৌঁছালে কুদ্দুসসহ চারজন তার অটোরিকশার গতিরোধ করে। পরে তাকে মারধর করে জোরপূর্বক নিজেদের অটোরিকশায় তুলে রামেরকান্দা বালুর মাঠ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অপহরণকারীরা ভিকটিমকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করে।

রাত আনুমানিক ২টার দিকে ভিকটিমকে অভিযুক্ত রাকিবের ভাড়া বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে পুনরায় পরিবারের কাছে মুক্তিপণের টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে নগদের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু এরপরও ভিকটিমকে মুক্তি না দিয়ে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে বারবার ফোন করা হয়। পরে আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার করে ভিকটিমের পরিবার আরও ৩৯ হাজার টাকা নগদের মাধ্যমে অভিযুক্তদের নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে পাঠায়।

উপায়ান্তর না দেখে ভিকটিমের স্বজন দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং অভিযোগের অনুলিপিসহ র‌্যাব-১০-এর অধিনায়কের কাছে ভিকটিমকে উদ্ধারের আবেদন জানান। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই র‌্যাব-১০-এর সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ জুলাই ২০২৬ দুপুর ২টা ৫ মিনিটে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার শুভাঢ্যা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রাকিবের ভাড়া বাসা থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় মো. সুন্দর আলীকে উদ্ধার করা হয়।

এ সময় আটককারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন— মো. কুদ্দুস মিয়া (৩৮), মো. জুয়েল রানা ওরফে কুত্তা জুয়েল (৪০), মো. রাকিব হাওলাদার (২৬) এবং মো. অপু মীর ওরফে বায়জিদ (৩৫)।

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত কুদ্দুস মিয়ার বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির দুটি, অস্ত্র আইনের একটি এবং সর্বমোট চারটি মামলা রয়েছে। রাকিব হাওলাদারের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির একটি মামলা রয়েছে। জুয়েল রানার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া অপু মীর ওরফে বায়জিদের বিরুদ্ধে দুটি চাঁদাবাজি, একটি ডাকাতির প্রস্তুতি এবং একটি নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব-১০।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *