নিম্নআয়ের মানুষের আস্থায় ওএমএস কর্মসূচি, কঠোর তদারকিতে ঢাকা রেশনিং এর কর্মকর্তারা

মোঃ রাসেল কবির:
ঢাকা শহরের নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে খাদ্য অধিদপ্তর পরিচালিত খোলাবাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় (ওএমএস) কার্যক্রম। ঢাকা রেশনিংয়ের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকার নিম্নআয়ের মানুষ ভর্তুকি মূল্যে চাল ও আটা কিনে পরিবারের খাদ্যচাহিদা পূরণ করছেন। এতে স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের সংসার পরিচালনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন উপকারভোগীরা।
রিকশা,বেন চালক, ছোট মুদি দোকানি, গৃহস্থালির কাজে নিয়োজিত নারী এবং নির্মাণশ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ওএমএসের চাল ও আটা কিনে উপকৃত হচ্ছেন। তাদের অনেকের মতে, বাজারদরের তুলনায় কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য পাওয়ায় সীমিত আয়ের মধ্যে সংসার চালানো সহজ হচ্ছে।
উপকারভোগীরা সরকারের প্রতি এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এর সুষ্ঠু বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকি আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ওএমএস কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে ঢাকা রেশনিংয়ের প্রধান নিয়ন্ত্রক আবদুল কাদের এর দিকনির্দেশনায় এআরও গণ নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি করছেন। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহে পাঁচ দিন ডিলার পয়েন্টগুলোতে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। পাশাপাশি নিয়মিত ভিডিও কলের মাধ্যমে ডিলার পয়েন্টগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের সমস্যা বা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ডি-২ এর এআরও চিন্তামনি তালুকদার বলেন, ওএমএস সরকারের একটি ভর্তুকি নির্ভর খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি। নিম্নআয়ের মানুষ যাতে নির্ধারিত মূল্যে চাল ও আটা পান, সেটিই তদারকির মূল লক্ষ্য। তিনি আরো বলেন, “ডিলার পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত সরেজমিনে গিয়ে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি ভিডিও কলের মাধ্যমেও প্রতিটি পয়েন্টের পরিস্থিতি দেখা হয়। কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত তা সমাধানের চেষ্টা করা হয়।” চিন্তামনি আরো বলেন, “নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের এই কর্মসূচি যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে জন্য আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছি। মাঠপর্যায়ে যেকোনো সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
ডি-৪ এর এআরও তারিকুজ্জামান বলেন, “বৃষ্টি-ঝড়সহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নির্ধারিত দিনে ওএমএস কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি ভর্তুকির সুবিধা পান, সেটিই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।” তিনি বলেন, “ডিলারদের কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। উপকারভোগীদের অভিযোগ বা কোনো ধরনের সমস্যা পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। সরকারের এই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সঠিকভাবে পরিচালনায় আমরা সবসময় তৎপর রয়েছি।”
রিকশাচালক মফিজ মণ্ডল বলেন, “রিকশা চালিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসারের সব খরচ চালানো কঠিন। বাজারের দোকানে চাল-আটার দাম বেশি। ওএমএস থেকে কম দামে চাল ও আটা কিনতে পারলে সংসারের খরচ কিছুটা কমে। সরকারের এই ব্যবস্থা আমাদের মতো মানুষের জন্য অনেক উপকারী।”
ছোট মুদি দোকানের ব্যবসায়ী আলিম মিয়া বলেন, “আমাদের আয় নির্দিষ্ট নয়। কোনো দিন বিক্রি ভালো হয়, কোনো দিন হয় না। তাই কম দামে চাল ও আটা পাওয়াটা আমাদের জন্য বড় সুবিধা। এই কর্মসূচি চালু থাকলে নিম্নআয়ের মানুষ উপকৃত হবে।”
গৃহস্থালির কাজ করেন হনুফা, তিনি বলেন, “সংসারে আয় কম। বাজার থেকে সবকিছু কিনতে গেলে অনেক টাকা চলে যায়। ওএমএস থেকে কম দামে চাল ও আটা কিনতে পারায় সংসারের অন্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে সুবিধা হয়। আমরা চাই সরকার এই কর্মসূচি চালু রাখুক।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের ভর্তুকিতে পরিচালিত ওএমএস কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো নিম্নআয়ের মানুষের কাছে তুলনামূলক কম মূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়া। এ কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের তদারকি কর্মকর্তা ও ডিলারদের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ঢাকা রেশনিংয়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত সরেজমিন পরিদর্শন, ভিডিও কলের মাধ্যমে মনিটরিং এবং সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে সরকারি এই জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য বা ভিত্তিহীন খবর প্রকাশিত হলে প্রকৃত উপকারভোগীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ওএমএসের মতো নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি নিয়ে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আরো বেশি দায়িত্বশীলতা ও তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা জরুরি।
নিম্নআয়ের মানুষের প্রত্যাশা, বাজারদরের চাপের মধ্যে স্বস্তি দেওয়া ওএমএস কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে অব্যাহত থাকবে এবং সরকারের ভর্তুকির সুফল প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে যাবে।