জুরাইনে তা’লীমুল উম্মাহ মাদরাসার ৫ শিক্ষার্থীর হিফজ সমাপন ও দস্তারবন্দী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর জুরাইনে তা’লীমুল উম্মাহ হিফজুল কুরআন মাদরাসার পাঁচ শিক্ষার্থীর পবিত্র কোরআনের হিফজ সমাপন উপলক্ষে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও দস্তারবন্দী অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে হিফজ সম্পন্নকারী পাঁচ শিক্ষার্থীকে পাগড়ি প্রদান করা হয়। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আলেম-ওলামা, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আজ শনিবার ঢাকার খন্দকার রোডে জুরাইন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও দস্তারবন্দী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। প্রধান আলোচক হিসেবে ওয়াজ ও নসিহত পেশ করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসিরে কেরাম ও ইসলামিক স্কলার মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী, পীরসাহেব, টেকেরহাট।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তা’লীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আ. জ. ম. রুহুল কুদ্দুস। অনুষ্ঠান পরিচালনা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন তা’লীমুল উম্মাহ মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ যাকীর হুসাইন।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, পবিত্র কোরআন মানবজাতির জন্য হেদায়েতের পথনির্দেশক। কোরআনের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে নৈতিকতা, সততা, মানবিকতা ও কল্যাণবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি তাদের সুশিক্ষিত, নৈতিকতাসম্পন্ন ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে, তারা নিজেদের পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের জন্য গর্বের বিষয়। এসব শিক্ষার্থীর অর্জনকে উৎসাহিত করতে অভিভাবক, শিক্ষক, আলেম-ওলামা ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন সুন্দর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখতে পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কাম্য।
তিনি হিফজ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে পবিত্র কোরআনের শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী তাঁর ওয়াজ ও নসিহতে পবিত্র কোরআনের শিক্ষা, ইসলামী জীবনব্যবস্থা এবং নৈতিক চরিত্র গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। কোরআন তিলাওয়াত, অধ্যয়ন ও শিক্ষার পাশাপাশি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করার গুরুত্বও আলোচনায় স্থান পায়।
তিনি ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার, সন্তানদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা করেন। এ ধরনের ধর্মীয় মাহফিল মানুষকে ইসলামের শিক্ষা সম্পর্কে জানার এবং নিজেদের জীবনকে কল্যাণমুখী করার সুযোগ করে দেয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল তা’লীমুল উম্মাহ হিফজুল কুরআন মাদরাসার পাঁচ শিক্ষার্থীর দস্তারবন্দী। পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করার স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের মাথায় পাগড়ি পরিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে কোরআন মুখস্থ করা, তা সংরক্ষণ করা এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে হিফজ সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
এ অর্জনের পেছনে শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়ের পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা রয়েছে। দস্তারবন্দী অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদেরও কোরআন শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলতে ভূমিকা রাখে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে পবিত্র কোরআন শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক চরিত্র গঠনের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের পাশে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এগিয়ে আসবেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, অভিভাবক ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা হিফজ সম্পন্নকারী পাঁচ শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানান এবং তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করেন। পবিত্র কোরআনের শিক্ষা ও আদর্শ ধারণ করে শিক্ষার্থীরা যেন ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে, সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।