ঢাকার নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তায় প্রধান নিয়ন্ত্রক আব্দুল কাদেরের নেতৃত্বে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ঢাকা রেশনিং এর কর্মকর্তারা

মোঃ রাসেল কবির:
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে যখন নিম্নআয়ের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে উঠেছে, তখন সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) কার্যক্রম রাজধানীর নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিদিন ন্যায্যমূল্যে চাল ও আটা বিক্রি করা হচ্ছে।

ঢাকা রেশনিংয়ের প্রধান নিয়ন্ত্রক মোঃ আব্দুল কাদের এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঢাকা মহানগরীতে ডি-১ থেকে ডি-৯ পর্যন্ত মোট ৯টি জোনে ওএমএস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন ৯জন এরিয়া রেশনিং কর্মকর্তা (এআরও) এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক তদারকি কর্মকর্তা। মাঠে তাদের নিয়মিত উপস্থিতি ও নজরদারির ফলে কর্মসূচি স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সপ্তাহে পাঁচ দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এ কার্যক্রমে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ৫ কেজি চাল ও ৫ কেজি আটা সংগ্রহ করতে পারেন। প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং প্রতি কেজি আটা ২৪ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

জুরাইন, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, কামরাঙ্গীরচর, বাড্ডা দক্ষিণখানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই ওএমএস কেন্দ্রগুলোতে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে চাল ও আটা কিনতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেন অনেক উপকারভোগী।
ওএমএস এর সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে, ডি-১ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত এআরও শহীদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো সরকারের ভর্তুকিপ্রাপ্ত খাদ্যসামগ্রী প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া। প্রতিদিন মাঠে থেকে আমরা বিক্রয় কার্যক্রম তদারকি করি। কোথাও কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার।”

একই বিষয়ে এরিয়া রেশনিং কর্মকর্তা ডি-৭ এর এআরও মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, “সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্য, নির্ধারিত পরিমাণ এবং নির্ধারিত সময় মেনেই চাল ও আটা বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আমরা চাই একজনও প্রকৃত সুবিধাভোগী যেন বঞ্চিত না হন এবং কোনো অসাধু ব্যক্তি যেন এ কর্মসূচির সুযোগ নিতে না পারে।”
ওএমএস কার্যক্রমের একজন সুবিধাভোগী যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা দিনমজুর আলীম শেখ বলেন, “বাজার থেকে বেশি দামে চাল ও আটা কিনতে অনেক কষ্ট হয়। ওএমএস এর দোকান ও ট্রাক থেকে কম দামে চাল ও আটা কিনতে পারছি। এতে পরিবারের খরচ অনেকটাই কমে গেছে।”
কদমতলীর বড়ই তলার একজন গৃহিণী তাসলিমা আক্তারের সাথে কথা বললে তিনি জানান,“প্রতিদিনের বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। ওএমএস থেকে চাল ও আটা পাওয়ায় অন্তত পরিবারের খাবারের চিন্তা কিছুটা কমেছে। সরকারের এই উদ্যোগ আমাদের মতো মানুষের জন্য অনেক উপকার করছে।”
জুরাইন মুন্সি বাড়িতে ভাড়া থাকেন স্বামী পরিত্যক্তা গৃহকর্মী চন্দ্রবানু, সে বলেন, “কম দামে চাল ও আটা কিনতে ভোর সকালে এসে লাইনে দাঁড়াতে হয়। প্রতিদিন দোকান খোলা থাকলে আমাদের মতো নিম্নআয়ের গরীব মানুষের অনেক উপকার হবে।”
ওএমএস এর কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরো জানান, ডিলারদের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম, ওজনে কারচুপি বা খাদ্যপণ্য অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সপ্তাহে পাঁচ দিন সিসিডিআরের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগরের প্রতিটি ডিলার পয়েন্টে নিয়মিত মনিটরিং পরিচালিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার কেন্দ্রের সমন্বয়ক মারিয়াম আক্তার রিভা বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ওএমএস নিম্নআয়ের মানুষের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রেখে এ কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হলে রাজধানীর আরও বেশি মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারবেন।