রাজধানীর ব্রাইট স্কুলের ১০ম শ্রেনীর ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় ক্ষোভ: পরিচালক ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর কদমতলী থানাধীন ধনিয়া এলাকায় অবস্থিত ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজ–এর ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিকুনের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর পরিবার ও একাধিক অভিভাবকের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনাগত অব্যবস্থাপনা, শিক্ষকদের কঠোর ও অপমানজনক আচরণ এবং দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের কারণেই কোমলমতি এই শিক্ষার্থী চরম হতাশায় ভুগছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আলহাজ্ব মাসুদ রানা লিটনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য এবং প্রকাশ্যে অপমান করার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী অভিভাবকদের দাবি, সামান্য বিষয় নিয়েও ছাত্র-ছাত্রীদের বাবা-মাকে স্কুলে ডেকে এনে অন্যদের সামনে অপদস্ত করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ভাষা ছিল অত্যন্ত কটু ও অসম্মানজনক, যা অভিভাবকদের জন্য মানসিকভাবে অপমানজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করত।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শিক্ষকদের মধ্যেও কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি, কঠোর আচরণ এবং অপমানজনক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মাহমুদা ম্যাডাম, সানজিদা ম্যাডাম ও রিফাত ম্যাডামের নাম উল্লেখ করে কয়েকজন অভিভাবক দাবি করেন, তারা প্রায়ই শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, কথায় কথায় ‘টিসি’ দেওয়ার হুমকি এবং বিভিন্ন বিষয়ে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করতেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও মানসিক অস্থিরতা তৈরি হতো বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে মানবিক ও ইতিবাচক আচরণ প্রত্যাশিত হলেও এখানে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্কুল কর্তৃপক্ষের আচরণের কারণে অনেক পরিবারে অশান্তি তৈরি হয়েছে। সন্তানদের বিরুদ্ধে স্কুল থেকে অভিযোগ আসার পর অভিভাবকরা ঘরে গিয়ে সন্তানদের বকাঝকা করতেন, ফলে অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়ত।
এদিকে, সাবিকুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। তাদের দাবি, যদি তদন্তে মানসিক নির্যাতন, অপমান বা কোনো ধরনের দায়িত্বহীন আচরণের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বা স্কুল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখার নামে কোনো শিক্ষার্থীকে মানসিকভাবে চাপে রাখা বা অভিভাবকদের অপমান করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের আরও সহনশীল, মানবিক ও দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি।