দনিয়া ও মাতুয়াইল ভূমি অফিসে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

প্রকাশিত: 3:17 pm, February 23, 2026 | আপডেট: 3:17 pm,

দনিয়া ও মাতুয়াইল ভূমি অফিসে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

বাধ্যতামূলক দালাল ছাড়া মিলছে না সেবা, অভিযোগ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর শ্যামপুর থানাধীন ধোলাইপাড় এলাকায় অবস্থিত মতিঝিল রাজস্ব সার্কেলের দনিয়া ভূমি অফিস এবং ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের মাতুয়াইল ভূমি অফিসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত দালালের মাধ্যমে অর্থ প্রদান ছাড়া ভূমি সংক্রান্ত কোনো কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

স্থানীয় সূত্র ও সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ, নামজারি, খতিয়ান উত্তোলন, জমির রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবা পেতে হলে নির্দিষ্ট দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ দিতে হয়। অন্যথায় ফাইল আটকে রাখা, অযথা বিলম্ব করা কিংবা বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানির শিকার হতে হয়।

 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, অফিস প্রাঙ্গণের ভেতর ও আশপাশে সক্রিয় কয়েকজন দালাল নিয়মিত সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায় করছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এসব দালাল সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ পরিচালনা করে এবং পুরো ঘুষ বাণিজ্যের ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত দালাল ছাড়া সরাসরি অফিসে কাজ করতে গেলে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়।

 

অনুসন্ধানী টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে দনিয়া ভূমি অফিসের কর্মকর্তা সঞ্জীব দৃশ্যত বিব্রত হয়ে পড়েন এবং অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের মাতুয়াইল ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান এ সময় উত্তেজিত আচরণ করেন, যা ভিডিওচিত্রে ধারণ করা হয়েছে।

 

একটি বিশ্বস্ত সূত্র দাবি করেছে, ভূমি অফিস দুটিতে প্রায় প্রতিটি সেবা ঘিরেই অঘোষিত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সেবা প্রত্যাশীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে দালালের মাধ্যমে কাজ করতে বাধ্য করা হয়।

 

এছাড়া, সূত্র জানিয়েছে, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান এর আগে বাড্ডা এলাকায় কর্মরত থাকাকালীন সময়েও তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বর্তমান কর্মস্থলেও একই ধরনের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা সঞ্জীব ও আসাদুজ্জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

 

স্থানীয় সেবা প্রত্যাশীরা ভূমি অফিসে দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *