শ্যামপুর–কদমতলী (ঢাকা-৪) এলাকায় জনদুর্ভোগ সমাধানে জরুরি উদ্যোগের দাবি এলাকাবাসীর

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর ঢাকা-৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত শ্যামপুর–কদমতলী, জুরাইন ও পোস্তগোলা এলাকাজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান নানা নাগরিক সমস্যায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও সমন্বয়হীন উন্নয়নের কারণে এলাকাটি এখন কার্যত সমস্যার নগরীতে পরিণত হয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়, সৃষ্টি হয় চরম দুর্ভোগ। অনেক এলাকায় পানি নামতে কয়েকদিন পর্যন্ত সময় লাগে, ফলে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
গ্যাস ও বিশুদ্ধ পানির সংকটও এখানকার নিত্যদিনের সমস্যা। অনেক এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাসের চাপ কম থাকে, যার ফলে স্বাভাবিক রান্নাবান্না ব্যাহত হয়। পাশাপাশি নিরাপদ পানির অভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েই চলেছে।
কদমতলী এলাকার প্রায় প্রতিটি রাস্তায় সংকীর্ণ ও ভাঙাচোরা। আর এ কারণে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। জনসংখ্যার তুলনায় অপর্যাপ্ত সড়ক এবং অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের ফলে এলাকাবাসীর চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
মশার উপদ্রবও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের আশঙ্কায় আতঙ্কিত এলাকাবাসী। অভিযোগ করেছেন, কার্যকর মশা নিধন কার্যক্রমের অভাবের।
এছাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি অনেক থাকলেও বাস্তবায়ন খুবই সীমিত।
ঢাকা-৪ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী বলেছেন, এই সমস্যাগুলোর দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান এখন সময়ের দাবি। যথাযথ পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকাটিকে বসবাসযোগ্য করে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।