হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার এবং ৪১১ বোতল ফেনসিডিলসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী আটক করেছে র‍্যাব-১০

প্রকাশিত: 5:17 pm, June 8, 2026 | আপডেট: 5:17 pm,

হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার এবং ৪১১ বোতল ফেনসিডিলসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী আটক করেছে র‍্যাব-১০

রাসেল কবির:

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যুবক আব্দুল মান্নান হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে আবারও পেশাদারিত্ব, দ্রুততা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে র‍্যাব-১০। একইসঙ্গে পৃথক অভিযানে রাজধানীর কমলাপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ৪১১ বোতল কথিত ফেনসিডিলসহ তিনজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১০ এর সিপিসি-১।

মঙ্গলবার (৮ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় র‍্যাব-১০ সিপিসি-১ কার্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এস.এম. হাসান সিদ্দিকী এসব তথ্য জানান। প্রেস ব্রিফিং-এ আরো উপস্থিত ছিলেন র‍্যাব-১০ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার তাপস কর্মকার।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ঈদুল আজহার প্রায় এক সপ্তাহ আগে ভিকটিম আব্দুল মান্নান (৩০) এবং হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. রাজন দেওয়ান সুমন ওরফে বাঘা (২৭)-এর মধ্যে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে গত ৭ জুন দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মিরহাজারীবাগ এলাকায় খাবার খেতে যাওয়ার পথে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে আসামিদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রধান আসামি রাজন দেওয়ান সুমন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই র‍্যাব-১০ এর আভিযানিক দল ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে। মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে মামলার প্রধান আসামি রাজন দেওয়ান সুমন ওরফে বাঘাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‍্যাব-১০। দ্রুত সময়ে এই সাফল্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটির দক্ষতা ও অপরাধ দমনে তাদের অঙ্গীকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অপরদিকে একই দিনে র‍্যাব-১০ সিপিসি-১ এর আরেকটি বিশেষ অভিযানে রাজধানীর কমলাপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪১১ বোতল কথিত ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। এ সময় তিনজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধ মাদক সংগ্রহ করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে।

অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‍্যাব-১০ এর ধারাবাহিক ও সফল অভিযান জনমনে আস্থা বৃদ্ধি করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুততম সময়ে আসামি গ্রেফতার ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার র‍্যাব-১০ এর পেশাদারিত্ব, সততা ও কার্যকর গোয়েন্দা সক্ষমতার আরেকটি উজ্জ্বল নজির।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *