যুক্তরাজ্য বিএনপির রিজিওনাল সমাবেশ: নতুন কমিটির আশ্বাস, আন্দোলনের অবদানেই হবে মূল্যায়ন

প্রকাশিত: 9:31 am, June 9, 2026 | আপডেট: 9:31 am,

যুক্তরাজ্য বিএনপির রিজিওনাল সমাবেশ: নতুন কমিটির আশ্বাস, আন্দোলনের অবদানেই হবে মূল্যায়ন

মনোয়ার হোসেন, বার্মিংহাম, যুক্তরাজ্য:

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রিজিওন-২-এর আওতাধীন সকল জোনাল কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে ৮ জুন ২০২৬ বার্মিংহামের বাদশাহ প্যালেসে অনুষ্ঠিত হয়েছে রিজিওনাল প্রতিনিধি সমাবেশ-২০২৬। দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সাংগঠনিক কাঠামোকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি জনাব আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক জনাব খুরশীদুজ্জামান খসরু। এছাড়া যুক্তরাজ্য বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল নেতা এবং রিজিওন-২-এর আওতাধীন সকল জোন থেকে আগত প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বিদ্যমান জোনাল কমিটিগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা, সাংগঠনিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রিজিওন-২-এর অধীনস্থ সকল জোনে নতুন কমিটি গঠন ও দায়িত্ব প্রদানের দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন। তারা স্পষ্ট করে বলেন, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার পক্ষপাত না রেখে যোগ্যতা, সততা এবং দলের প্রতি অটল নিবেদন—এই তিনটি মানদণ্ডকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এ সময় নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণভাবে উল্লেখ করেন, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের আগে বিগত দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, দলের সংকটময় মুহূর্তে আত্মত্যাগ ও সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী নেতাকর্মীদের অবদানকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তারা বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নীতিকে স্মরণ করিয়ে দেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক সভায় বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন—“দলের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করো, দল নিজেই একদিন তোমাদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করবে।” এই নীতিকে সম্মান জানিয়েই নতুন কমিটি গঠন করা হবে বলে তারা আশ্বাস দেন।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে বিএনপির গণসংযোগ বাড়ানো, দলের আদর্শ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রচার করা এবং প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়া—এই লক্ষ্যগুলো সামনে রেখেই নতুন নেতৃত্বকে কাজ করতে হবে। এ ধরনের নিয়মিত সমাবেশ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাংগঠনিক সংহতি আরও জোরদার হবে এবং দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।



একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *